সিরাজদিখানে ৮ পরিবারের লোকজন লকডাউনে

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২০

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে করোনা আক্রান্ত রোগীর লাশ গোপনে নিয়ে এসে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দাফন করা হয়েছে। এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে করোনা আক্রান্ত হয়ে  মৃত্যু বরণ করা মুফতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুকীর আত্বীয় ও পরিবারের বিরুদ্ধে। এমন কি ওই ব্যাক্তির জানাজায়  আড়াই ২শতাধীক মানুষ উপস্থিত থেকে তার দাফন সম্পন্ন করে। বিষয়টি জানাজানি হবার পর জানাজায় শরিখ হওয়া ব্যক্তিবর্গসহ এলাকাবাসীর মধ্যে করোনা সংক্রামিত হবার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের আত্মীয়স্বজনসহ উপজেলা প্রশাসন ৮ পরিবারের লোকজনকে লকডাউনে রেখেছেন।

নিহত ফারুকী উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন মুন্সীর পুত্র এবং সে  আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মুস্তফাগঞ্জ  মাদ্রাসায় মুহতাতিম ছিলেন। গত বুধবার ৮ এপ্রিল বিকাল অনুমান ৬ টার দিকে ঢাকাস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় মারা জান তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। করোনা আক্রান্তের বিষয়টি মুফতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুকীর পরিবার গোপনে লাশ নিয়ে এসে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মুস্তফাগঞ্জ  মাদ্রাসা মাঠে গত ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। 
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা তার মৃত্যুর খবর পেয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য তিনি কি কারণে মারা যায় এবিষয়ে মুফতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুকীর আত্মীয় এবং পরিবারের লোকজনের নিকট জানতে চাইলে তারা বিষয়টি গোপন করে  কেউ বলেন স্ট্রোক,কেউ বলেন হার্টএ্যাক করে মারা যাওয়ার মিথ্যা তথ্য দেয়।

অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল বুধবার মুফতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুকী অসুস্থ্য হলে আত্বীয়রা তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিসার জন্য নেয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার শরীরে কভিড-১৯ এর উপস্বর্গ দেখে ডাক্তাররা তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার মৃত্যু হলে হাসপাতালের কাউকে না জানিয়ে ওই রোগীর আত্বীয়রা লাশ নিয়ে চলে আসে। আগে নেয়া ওই রোগীর শরীরের নমুনায় করোনা পজেটিভ ধরা পরে। এনিয়ে ওই দুই হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এর পর আত্বীয়রা মুফতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুকীর মৃতদেহ গ্রামের বাড়ী উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম শিয়ালদী এনে আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মুস্তফাগঞ্জ  মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন করে। 
করোনা আক্রান্তের বিষয়টি একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে প্রচার হওয়ার পর লোকজন জানতে পারে। এনিয়ে জানাজায় উপস্থিত থাকা লোকজন ও স্থানীয় লোজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। তারা এখন ভীত হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যপারে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুনাহার জানান, বিষটি গত রাতে অবহিত হয়েছি। কিছুক্ষর মধ্যে ওই এলাকায় গিয়ে  ৮ পরিরবারের লোকজনদের লকডাউন করে  এসেছি প্রয়েজনে  যানাযায় ও তার সাথে থাকা আরো লোকজনের পরিবারকে লকডাউনসহ প্রয়োজীল ব্যবস্থা নিবো।

আপনার মতামত লিখুন :