বিজয়নগরে অবৈধ পন্থায় দলিল করার অভিযোগে মামলা

প্রকাশিত : ৯ অক্টোবর ২০২১

আলমগীর হোসেন, বিজয়নগর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

বিজয়নগর উপজেলার অবৈধ পন্থায় দলিল করার বিরুদ্ধে দলিল দাতা ও গ্রহীতা, দলিল লেখক সহ শনাক্তকারী বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন, উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের সুখেন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, সুখেন্দ্র চন্দ্র রায় তারা তিন ভাই, তার মধ্যে দুই ভাই মৃত্যুবরণ করেন, মৃত ভাইয়ের মধ্যে একজন সুখেন্দ্র রায়ের সহোদর ভ্রাতা নিঃসন্তান অধুনা মৃত শংকর চন্দ্র সাহা জীবিত কালে তার স্ত্রী মিনা রানী সাহাকে তার সেবাযত্নে খুশি হয়ে, ০৫/১২/১৮ ইং তারিখে ১৬৫৪৫ নং দানে ঘোষণায় ৪১৩২ দাগে ৫.২০, ৪১৩১ দাগে ৬.৮০ ও ৩ শতাংশ পুকুরে, মোট ১৫ শতক রেজিস্ট্রি করে দিলে ভোগ দখলকার অবস্থায় মিনা রানী দাস মৃত্যুবরণ করেন। তবে প্রশ্নবিদ্ধ দলিলের লেখক দলিলে উল্লেখ করেন মিনা রানী সাহা তার স্বামীর ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হইয়াছেন, যাহা হিন্দু ধর্মের আইনে নেই।
বর্তমানে এই সম্পত্তির বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী ওয়ারিশ সূত্রে মালিক, মিনা রানী সাহার ভাসুর সুখেন্দ্র সাহা বিদ্যমান থাকলেও, মামলায় উল্লেখিত সকল আসামীগণ সঙ্ঘবদ্ধ জালিয়াতি ও প্রতারক চক্র, আসামীগণ প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দলিল সৃজন করিয়াছে।

উল্লেখিত মামলার ৫ নং আসামী উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মোঃ সুলাইমান মিয়া (৪৫) দলিল লেখক, বহুদিন ধরেই নিরীহ মানুষের সম্পত্তি প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জাল কাগজ বানিয়ে বেআইনিভাবে দলিল লিখিয়া নিরীহ মানুষকে পেরেশানিতে রাখে সামান্য অর্থের বিনিময়ে।

সকল আসামীগণ পরস্পর সহযোগিতায় সুদর প্রসারী লক্ষ্য নিয়া বাদীর দখলীয় ভূমি গ্রাস করিবার ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত থাকিয়া বাদীর উক্ত ভূমিতে আইনত মালিক ও ভোগ দখলকার থাকার বিষয়ে জানিয়া শুনিয়াও ১/২ নং আসামীগন সরাইল উপজেলার ভাই বাবুল চন্দ্র সাহা (৩৯) ও পল্টু চন্দ্র সাহা (৩২) কথিত দাতা সাজিয়া, দলিলে উল্লেখিত ঠিকানা সরাইল ইউনিয়ন থাকলেও, শাহবাজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কর্তিৃক ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে ৩ নং আসামী গীতা রানী সাহা (৭৯) কে, গ্রহেএী সাজাইয়া অবৈধ দলিল সম্পন্ন করেন।

৪নং আসামী উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের ফারুক (ভূমির আমিন), হয়ে ভিন্ন গ্রামের সম্পত্তিতে অনৈতিকভাবে কথিত সনাক্তকারী সাজিয়া ফলস পারসোলেশন ক্রমে দলিল লেখক সুলেমানের সাথে যোগসাজশে ৬/৭ নং আসামী সাতগাঁও মোঃ রফিকুল ইসলাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৈরতলার মোঃ শরিফুল ইসলাম কে সাক্ষী বানিয়ে, গীতা রানী সাহার নামে ৬৮২১/২১ইং দানের ঘোষণাপত্র দলিল সম্পাদন করেন।
মামলার বাদী ভাগিনা সরিমল সাহা দলিল লেখক সুলাইমানের ও তার সহযোগী ফারুকের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাদের কাছে বহুবার ঘুরাঘুরি, টাকা পয়সা দিয়ে অনুরোধ করেন, উক্ত দলিল বা খারিজ হয়েছে কিনা জানার জন্য, অভিযুক্ত দলিল লেখক টাকাপয়সা নিয়েও তাকে কোনো সঠিক জবাব না দিয়ে বলল, কোন দলিল হয় নাই। তখন সরিরমল সাহা বাধ্য হয়ে অন্য লোকের মাধ্যমে এ দলিলের তল্লাশি দিয়ে তথ্য নিয়ে দেখেন, দলিল লেখক সোলাইমান ও সনাক্তকারী ফারুক এই প্রশ্নবিদ্ধ দলিলের মূল হোতা। সরিমল সাহা আরো বলেন এসব ধরণের দলিল লেখকের কঠিন বিচার হওয়া দরকার। এই নামজারি বাতিলের জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি) কাছে ১৫/০৯/২১ ইং তারিখে আবেদন করেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দলিল লেখক সুলেমানকে তিনবার টাকা দেওয়া হয়েছে, দলিল তল্লাশি দেওয়ার জন্য, কিন্তু সে কোন কাজই করেনি। পরে দেখা গেছে এই সুলেমান দলিল লেখকই এই দলিলের উৎসাহদাতা ও দলিল দাতা ভুয়া ওয়ারিশ পত্র বানিয়ে এই দলিল সম্পন্ন করেন।

এ বিষয়ে দলিল লেখক এর সাথে কথা বললে, সে তার এই অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে আখ্যায়িত করেন। এবং টাকা লেনদেনের কোন ঘটনাই ঘটেনি বলেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :