লক্ষ্মীপুরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েবের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০২২

চন্দ্রগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি :

লক্ষ্মীপুর সদরের বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র চন্দ্রগঞ্জ বাজারের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার লক্ষ্যে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার একমাসের রেকর্ডকৃত সকল ফুটেজ ডিলেট করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ নেতা কাজী মামুনুর রশিদ বাবলুর বিরুদ্ধে। খবরটি জানাজানি হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপাক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ৯ জানুয়ারী রোববার বিকেলে চন্দ্রগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরো বাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। সেখানে কেউ যদি নিজের অপরাধের প্রমাণ বিনষ্ট করতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিলেট করে দেয়, তাহলে অপরাধ কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তারা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন রাখেন।

সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ইউপি নির্বাচন কেন্দ্রীক চন্দ্রগঞ্জ বাজারে বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি নিউ মার্কেট এলাকায় নির্বাচনের পরেরদিন ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুর রহমান আনিকসহ কয়েকজনের উপর হামলাসহ মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা কাজী বাবলুর নিজস্ব অফিস নিউ মার্কেট সংলগ্ন মসজিদ মার্কেটের নীচে অবস্থিত হওয়ায় তার অফিসে দিনরাত বিভিন্ন এলাকা থেকে চিহ্নিত অপরাধী ও অস্ত্রধারীরা যাতায়াত করায় এসব লোকজনের আনাগোনার বিষয়টি বাজারের সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়। যার ফলে, কাজী বাবলু এসব অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে চন্দ্রগঞ্জ বাজারের একজন অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানকে সাথে নিয়ে রোববার সন্ধ্যার আগে সকল ফুটেজ ডিলেট করে দেন। যা ঐ টেকনিশিয়ান নিজ মুখে স্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ছাত্রলীগ নেতা কাজী বাবলু ও তার অনুগত লোকজন প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিউ মার্কেটের সামনে অবস্থান নেয়।

এতে একদিকে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে দলীয় পোলাপানের ইভটিজিংয়ের কারণে ভদ্র সমাজের ক্রেতারা পরিবারের মহিলা সদস্যদের নিয়ে নিউ মার্কেটে প্রবেশ করেনা। আমরা ব্যবসায়ী এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানাই।

বাজারের নিরাপত্তায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ডিলেট করার বিষয়ে জানতে চাইলে বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ফুটেজ গায়েব বা ডিলেট করার বিষয়টি শুনেছি। আমরা এখন থেকে বাজার পরিচালনা কার্যালয়টি সার্বক্ষণিক বন্ধ রাখাসহ তদারকি করবো। যাতে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা না ঘটে।

লক্ষ্মীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) পলাশ কান্তি নাথ এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ধরনের কোন ঘটনা শুনিনি, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

আপনার মতামত লিখুন :