লক্ষীপুরে আশ্রায়ন প্রকল্পের ৯০টি পরিবারের মানবেতর জীবন

প্রকাশিত : ১৬ এপ্রিল ২০২০

লক্ষীপুর প্রতিনিধি : ত্রাণের জন্য কর্মহীন নিম্ম আয়ের মানুষের মধ্যে রয়েছে হাহাকার। অর্ধাহারে অনাহারে থাকছে সাধারণ মানুষ। চলছে জেলা জুড়ে লকডাউন। ৪র্থ দিনেও জেলা শহরে কিছু গণপরিবহন চলছে, আর গ্রামে সামাজিক দুরত্ব মানছেনা মানুষ। প্রতিটি চায়ের দোকানে চলছে জমজমাট আড্ডা। 

এমন পরিস্থিতিতে লক্ষীপুর সদর উপজেলার কালিরচর আশ্রয়ন প্রকল্পে সরকারি বেসরকারি কোন ধরণের সহায়তা না পেয়ে এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন ৯০টি পরিবারের নারী শিশুসহ ৫ শতাধিক মানুষ। 

জানা যায়, জেলা প্রশাসন ঘোষিত লকডাউনের ৪র্থ দিন চলছে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল)। সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরে স্বল্পপরিসরে চলছে গণ পরিবহন। মানুষের চলাচলে লকডাউনে অনেকটা ঢিলেঢালাভাব লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে বিভিন্ন গ্রামে অসচেতনভাবে দোকানে দোকানে এখনো লোকজন আড্ডা দিতে দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক দুরুত্ব মানছেননা। মাস্ক ছাড়াই ঘর থেকে হাটা-চলা করছেন মানুষ। চরাঞ্চলের শিশুরাও স্থানীয় রহমতখালী নদীতে দলবদ্ধ হয়ে গা ভিজিয়ে নিতে দেখা গেছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে যেন চিন্তায় নেই এ অবুঝ শিশুদেরও। তবে করোনার প্রভাবে জেলার নিম্ম ও মধ্য আয়ের মানুষরা কর্মহীন হয়ে পড়ে এখন অর্ধাহারে ও অনাহারে থাকছেন। 

স্থানীয় তথ্যমতে জেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষের মধ্যে ৭০ ভাগ মানুষই কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে এসব মানুষ এখন পড়েছেন বিপাকে। ঘরে ভাত নেই,বাইরে কাজ নেই, ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ, সরকারি -বেসরকারি পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণও পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ আছে এখানকার অধিকাংশ মানুষের। অনেকে অর্ধাহারে অনাহারে থাকছেন বলে জানান।

জেলা সদরের টুমচর ইউনিয়নের কালিরচর আশ্রয়নপ্রকল্পে বর্তমানে বাস করছেন হত-দরিদ্র ৯০টি পরিবার। এসব পরিবারে নারী-শিশুসহ ৫শতাধিক মানুষ রয়েছে। এদের কেউ শ্রমিক, কেউ ঝিয়ের কাজ করতেন কেউবা ভিক্ষা করে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কিন্তু করেনা ভাইরাসের কারনে থমকে গেছে তারা। এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি সরকারি-বেসরকারি কোন সহায়তা। এতে করে তারা অর্ধাহারে-অনাহারে থাকছেন বলে জানান।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল আমিনও বিষয়টি স্বীকার করে ত্রাণের অপ্রতুলতায় এমনটি হচ্ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আরো সহায়তা চান।

১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর রহমান আরমান শাকিল জানান, সরকারের বরাদ্ধ উপজেলার সকল ইউনিয়নে দেওয়া হয়েছে। টুমচর ইউনিয়নে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ১৩ টন চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সহ ৮০ প্যাকেট ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। আশ্রায়ন প্রকল্পে ত্রাণ কেনো পৌঁছেনি তা নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। আগামীকাল ওই এলাকায় খাদ্য সহায়তা পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি। 

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল গফফার জানান, লক্ষীপুরে এ পর্যন্ত ৩০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে করোনা অক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে দুইজন।

আপনার মতামত লিখুন :