মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানায় স্ক্র্যাপ লুটের চেষ্টা, আনসার বাহিনীর গুলি

প্রকাশিত : ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :

মিরসরাইয়ে বিএসআরএম কারখানায় স্ক্র্যাপ লুটের চেষ্ট চালিয়েছে এক দল দুষ্ক্রিতিকারী। স্ক্র্যাপ লুট নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সাথে চোর চক্রের গোলাগোলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটায় উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নে অবস্থিত ইস্পাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিএসআরএম কারখানার উত্তর-পূর্বাংশে এঘটনা ঘটে। এসময় আরিফুল ইসলাম (২৮) নামে একজন সহ একাদিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিএসআরএম গ্রুপের ব্যাপস্থাপনা পরিচালক (এডমিন) দেলোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটায় কারখানার উত্তর-পূর্বাংশে রাখা স্ক্র্যাপ চুরি করার জন্য ৪০-৪৫ জনের সংঘবদ্ধ চোর চক্র চেষ্ঠা করে। এসময় দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বাধা দিলে চোর চক্রের সদস্যরা তাদের লক্ষ করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় তারা হাতাহাতি করলে আনসার সদস্যরাও অ্যাকশনে যায়। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি। ঘটনা পরবর্তীতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া কারখানার স্ক্র্যাপ চুরির ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

তবে স্থানিয় একাদিক প্রত্যক্ষদর্শি জানায়, স্ক্র্যাপ লুটের চেষ্টাকালিন সময়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মোঃ আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। তার দুই পা বন্দুকের ছররা গুলিতে ঝাঝরা হয়েগেছে। আরিফুল ইসলাম ছাড়াও একাদিক চোর সদস্য আহত হলেও তাদের নাম পরিচায় প্রকাশ করছেনা কেউ। আহত আরিফুল ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

আরিফুল ইসলামের মামা জসিম উদ্দিন বলেন, সোমবার রাতে বিএসআরএম কারখানায় সংঘর্ষের ঘটনা দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন আরিফুল। পরবর্তীতে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আরিফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সে স্থানীয় খিলমুরালী গ্রামে পানের দোকান করে বলে জানান তিনি।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, সোমবার রাতে আহত আরিফুল ইসলাম সহ ৫০ সদস্যের একটি চোর চক্র বিএসআরএমের স্ক্র্যাপ লুট করার জন্য প্রবেশ করে। এসময় দায়িত্বরত আনসারবাহিনীর সদস্যদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আরিফুল ইসলাম সহ কয়েকজন আহত হয়। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বিএসআরএম কর্তৃপক্ষ দায় স্বীকার না করলেও স্থানীয়দের বক্তব্যে এর সত্যতা পাওয়া যায়। গুলিতে আহত ও চুরির বিষয়ে থানায় এখনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, থানার রেকর্ড অনুযায়ী আহত আরিফুল ইসলাম ইতিপূর্বে সাড়ে ৪ হাজার কেজি বিএসআরএমর চোরাই স্ক্র্যাপসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। সে জামিনে এসে পুনরায় চুরি করতে গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন :