বাবাকে হারিয়ে নির্বাক সাংবাদিকের শিশু কন্যা তনুশ্রী, মিরসরাইতে সাংবাদিকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের মাতম

প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল ২০২১
সাংবাদিক সুজন চন্দ্র মন্ডল

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

নির্বাক নিহত সাংবাদিকের একমাত্র শিশু কন্যা তনুশ্রী। পিতার নিথর দেহের দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই বলছে না। নাওয়া খাওয়া বন্ধ কথা বলছে না কারো সাথে। তনুশ্রীর পিতা সাংবাদিক সুজন চন্দ্র মন্ডল দেশের জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার মিরসরাই উপজেলা প্রতিনিধি।

মৃত্যুর পূর্বে নিজেকে এক রকম পরিবার পরিজন থেকে আলাদা করে নিয়েছিলেন। কিন্তু একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ছিল তার যতো আশা ভরশা আনন্দ আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। পরিবারের কারো সাথে খোলেমালা সময় না কাটালেও সুযোগ পেলেই মেয়েকে সময় দেয়ার চেষ্টা করতেন।

 

বাবাকে হারিয়ে নির্বাক তনুশ্রী

নিয়মিত পড়ালেখার খবর রাখতেন, শিশু বয়সেই শিশু কন্যা তনুশ্রীকে কম্পিউটার শিক্ষা দিয়েছেন। সময় সুযোগ পেলেই মেয়েকে গান শিখাতেন মেয়েকে নিয়ে গান গাইতেন। মেয়ের গাওয়া গান নিজেই ভিড়িও করতেন। মেয়ের গানের সুরে আনন্দ হয়ে বন্ধুদের সাথে গর্বের সাথে সুনাম করতেন। মেয়ের ও বাবার প্রতি ছিল পরিবারের অন্য সদস্যদের ছেয়ে ভিন্ন রকমের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা। সেই বাবাকে মূহুর্তেই হারিয়ে নির্বাক এখন শিশু কন্যা তনুশ্রী।

সাংবাদিক সুজন মন্ডল (৪২) গত শনিবার আকষ্মিক মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ ঝুলন্ত আবস্থায় উদ্ধার করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ। ধারনা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। তবে নিহতের লাশের পাশে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে যেখানে লেখা আছে যার কাছে আমার আবেগের দাম নেই তার সাথে আমার সম্পর্ক নেই।

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকের মাতমে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন সুজন মন্ডলের মা। তার আর্তচিৎকারে ভারি হয়ে এসেছে আশপাশের পরিবেশ। বারবার মুর্ছা গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে তিনিও জীবন শঙ্কায়।
পুলিশের সুরতহাল ও উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানালেন মিরসরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সাহেব (সুজন মন্ডল) দুপুর ১১টা নাগাদ তার রুমে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। আমারা প্রত্যক্ষ করে দেখেছি তার কক্ষে এই একটি দরজা ছাড়া অন্য কোন প্রবেশ পথ নেই। আমরা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছি। অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতামত ও সুরতহাল অনুযায়ী এটি একটি আত্মহত্যা । এর পরেও সুরতহালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য।

 

সুইসাইড নোট

লাশ উদ্ধারের সময় উপস্থিত ছিলেন মিরসরাই সার্কেল এএসপি লাবিব আব্দুল্লাহ, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান, অসি অপারেশন দিনেশ চন্দ্র দাস গুপ্ত। এছাড়া স্থানিয় মেয়র গিয়াস উদ্দিন, কমিশনার জহির উদ্দিন, সাংবাদিক পিতা নীরদ বরণ বন্ডল, মা ও স্ত্রী।

এদিকে সাংবাদিক সহকর্মিকে হারিয়ে শোকের মাতম বইছে মিরসরাই সাংবাদিক মহলে।

মিরসরাই প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে শোক প্রস্তাব করেছেন মিরসরাই প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নুরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এনায়েত হোসেন মিঠু।

প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তারা নিহত সাংবাদিক পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :