আনোয়ারায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সরকারি জমি থেকে মাটি বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত : ১৩ মে ২০২০

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের সিইউএফএল কলোনীর দক্ষিণে মাঝরচড় এলাকায় গোবাদিয়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি প্রায় ১৫ একর জায়গা হতে গত তিন মাস যাবৎ স্কেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রয় করার অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের বিরুদ্ধে।

চক্রটির সদস্যরা নিজেদেরকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন মাটি বিক্রয় করে যাচ্ছে। স্থানীয় ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। মাটি খেকো চক্রটি সরকারি সম্পত্তির মাটি কেটে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টির মতো ট্রাকে করে আনোয়ারার বিভিন্ন এলাকা ও টানেলের কাজে এই মাটি বিক্রয় হচ্ছে বলে জানা গেছে । কিছুদিন আগে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দিলেও কয়েকদিন বন্ধ রাখার পর আবারো শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব।

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট সকলকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। ১৩ই মে (বুধবার) বিকাল ৩ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনোয়ারা সিইউএফএল কলোনীর দক্ষিণে মাঝরচড় এলাকায় খাস জমিতে একটি মাটি কাটার স্কেভেটর রয়েছে। আশে-পাশের বিশাল জায়গা হতে মাটি বিক্রি করে বড় বড় গর্ত করে ফেলেছে। দিনের বেলা হওয়ায় স্কেভেটর চালক বা অন্য কেউ ছিলনা।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে শুরু হয় ট্রাকে ট্রাকে মাটি কাটা। এবং সে মাটিগুলো টানেল ঠিকাদার ওদের থেকে অল্প মূল্যে ক্রয় করে টানেল কর্তৃপক্ষের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করে। তাছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় এই মাটি বিক্রি হচ্ছে। এলাকাবাসীর মতে, সরকারী জমির মাটি বিক্রির বিষয়ে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিন্তু এই মাটি বিক্রয় গাড়ী গুলো হতে মাটি পড়ে পড়ে সড়কে একটু বৃষ্টি হলে সড়কটি যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বৃষ্টির পানি আর মাটির কাঁদায় মোটরসাইকেল, সিএনজি, রিকশা চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবী জানান তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারি জমি হতে সরকারের অনুমতি ব্যতীত মাটি বিক্রি করা গুরুতর অপরাধ। কেউ যদি এটা করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর কেউ রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে মাটি কাটা, ভূমি দখল, এসমস্ত কাজ করে থাকলে মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করবেন বলেও জানান।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি ওই স্থান থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কাটতে গিয়ে কেউ যদি রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে ক্ষমতা দেখিয়ে থাকে তাহলে আমার জোর দাবী থাকবে প্রশাসন যেন দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ওই স্থানে মাটির কাটার অভিযোগে সরেজমিনে গিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করে মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেউ যদি নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

আপনার মতামত লিখুন :