যে কোনো মুহুর্তে হালদা নদীতে ডিম ছাড়তে পারে মা মাছ, প্রস্তুত ডিম আহরনকারীরা

প্রকাশিত : ৭ মে ২০২০

নেজাম উদ্দিন রানা, রাউজান (চট্টগ্রাম): প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে যে কোনো সময় মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। গত রবিবার রাতে ডিম আহরণকারীদের জালে পাওয়া গেছে নমুনা ডিম। এখন হালদা পাড়ে নৌকা ও ডিম আহরণের সরঞ্জাম নিয়ে শত শত ডিম আহরণকারী অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। ডিম ছাড়লেই যেন শুরু হবে উৎসব। এই ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন মৎস্যজীবিরা।

গতকাল দুপুরে হালদা নদীর আজিমের ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পাড়ে ন্কৌা নিয়ে অপেক্ষমান পোনা আহরণকারীরা। এ সময় রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের পোনা আহরণকারী মোঃ নাছির বলেন, ১২ টি নৌকা নিয়ে তিনি কয়েকদিন ধরে ডিম ধরার সরঞ্জাম নিয়ে হালদাপাড়ে অপেক্ষায় আছেন। স্থানীয় পোনা আহরণকারী ও মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, সাধারণত আমবস্যা-পূর্ণিমায় লাগাতার বজ্রসহ বৃষ্টি, শীতল আবহাওয়া ও পাহাড়ি ঢলে কার্প জাতীয় মা মাছ হালদা নদীতে ডিম ছাড়ে।

নদীর দূষণ কমে আসায় এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশী পরিমান ডিম সংগ্রহের বিষয়ে আশাবাদী সকলে। তবে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে নদীতে যান্ত্রিক নৌযানের অবাধ চলাচল থাকায় মা মাছের জন্য হুমকি মনে করছেন স্থানীয় সচেতন লোকজন। হালদাপাড়ে মোবারেকখীল হ্যাচারিও প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবিরা প্রাচীণ সনাতন পদ্ধতির মাটির কুয়াও প্রস্তুত করেছেন।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। হালদা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা আইডিএফের স্বেচ্ছাসেবক রোসাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবছর ডিম ছাড়ার মৌসুম আসছে নদীপাড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।আমরা সনাতন পদ্ধতির মাটির কুয়ার সাথে পাকা কুয়াও প্রস্তুত করে রেখেছি।

রাউজান উপজেলা সি, মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন হালদার বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে বলেন, হালদায় অনুকুল পরিবেশ না থাকায় মা মাছ ডিম ছাড়ছেনা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে যে কোনো সময় মা মাছ ডিম ছাড়বে। তিনি বলেন, হালদা নদীতে আমরা নিয়মিত টহল জোরদার করেছি। আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। মোবারেকখীল হ্যাচারিও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেখানে জেনারেটরের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। ডিম আহরণকারীরাও নৌকা, জালসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত আছে।

রাউজান উপজেলা সি. মৎস্য কর্মকর্তা পিযুষ প্রভাকর বলেন, হালদায় ডিম ছাড়ার বিষয়টি প্রকৃতির উপর নির্ভর করছে। আশা করছি ডিম ছাড়ার অনুকুল পরিবেশ বিরাজ থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হালদায় মা মাছ ডিম ছাড়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।

আপনার মতামত লিখুন :