মিরসরাইয়ে ভেঙ্গে পড়েছে সামাজিক দূরত্ব

প্রকাশিত : ৬ মে ২০২০

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: মিরসরাই উপজেলায় নতুন করে আরো এক মহিলা করোনা রুগি সনাক্ত হয়েছে। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা প্রশাসন। নতুন আক্রান্ত রুগি সহ উপজেলায় মোট আক্রান্ত রুগির সংখ্যা ৩ জন তবে একজন সুস্থ হয়ে ইতি মধ্যে বাড়ি ফিরেছে। নতুন আক্রান্ত রুগি উপজেলার করের হাট এলাকার বাসিন্দা। আক্রান্ত রুগির খবর পাওয়া মাত্রই উপজেলা প্রশাসন তার বাড়িটি লগডাউন করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জুড়ে ছোট-বড়- মাঝারি সহ সকল হাট বাজার গুলোতে কমেছে প্রশাসনিক নজরদারী। ফলে ভেঙ্গে পড়েছে সামাজিক দূরত্ব, বাড়ছে করোনা ভাইরাস ছড়ানো ও সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা। বড় হাট বাজার গুলোতে বেড়েছে উপছে পড়া ভিড়। হাট বাজার দোকান মার্কেট সবত্রই মানুষের গণজমায়েতের সৃষ্টি হয়েছে। সকাল-সন্ধ্যা বেড়েছে কর্মমূখি মানুষের আনাগোনা। সামনে ঈদবাজার কে কন্দ্র করেই বাজার মুখি মানুষের এমন জন শ্রোত তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৬মার্চ) দুপুরে মিরসরাই সদর বাজার, মিঠাছড়া, যোরারগঞ্জ, বামনসুন্দর, বারৈয়ারহাট, বড়তাকিয়া, সাহেরখালি ভোরের বাজার, আবুতোরাব সহ ছোট বড় প্রায় সকল বাজারেই দেখা গিয়েছে ঠিক একই চিত্র। তবে ফজরের নামাজে মসজিদ গুলো ছিলো প্রায় মুসল্লি শুন্য, মন্দির, গির্জায় দেখা যায়নি ভক্তদের চোখে পড়ার মতো ভিড়। উপজেলার বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রশাসন ও সরকারের বিধি নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে প্রথম থেকেই। তার মধ্যে বিএসআরএম ও নাহার এগ্রো, নাহার পল্টি অন্যতম।

বুধবার দুপুর ১২টায় মিরসরাই সদর বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুদিদোকান, ফলের দোকান, কাছা তরিতরকারি ও মাছ বাজারে অন্যান্য দিনের তুলনায় অস্বাভাকি ভিড়। কসমেটিক ও কাপড়ের দোকান গুলো সীমিত আকারে খোলা রেখেছে। নতুন কৌশল নিয়েছে তারা তাদের ব্যবসায় পরিচালনায় । দোকানের ঝাপটা লাগিয়ে আশপাশেই থাকছে পরিচিত কাষ্টমার আসলেই ঝাপটা খুলে প্রয়োজনিয় জিনিস বিক্রিয় করে করে আবার দ্রুত বন্ধ করে দিচ্ছে দোকান। তবে দোকান খোলা দেখে অনেকেই ভিড় করার চেষ্টা করছে। এছাড়া বেশ কিছু দোকান একপাশের ঝাপটা খুলে ব্যবসায় পরিচালনা করতে দেখা গিয়েছে ছোট খাটো ভিড় ও হচ্ছে এসব দোকানকে কেন্দ্র করে।

বামন সুন্দর বাজারে গিয়ে দেখা যায় অতিতের মতোই নির্ভয়ে কার্যক্রম চলছে সকল প্রতিষ্ঠানের। মাছ বাজারের ভিড় ছিল ভয়াবহ যে খানে সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরে থাক কারো মাথায় যেন সে চিন্তাই ছিল না। কাশেম নামে এক ক্রেতা বলেন, ঘরে মাছ শেষ হয়ে গেছে তাই মাছ কিনতে আসলাম কিন্তু যে পরিমাণ ভিড় দেখতেছি বাজারে ঢুকতে ভয় পাচ্ছি দাড়িয়ে আছি একটু ঝটলা কমার জন্য।

প্রশাসনিক নজরদারির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম প্রথম স্থানিয় ইউনিয়ন পরিষদ, থানা প্রশাসন ও উপজেরা প্রশাসন থেকে সচেতনতা মূলক প্রচার প্রচারণা চালাত, পুলিশ মাঝে মাঝে টহল দিত মানুষ বাজারে থাকলেও পুলিশ দেখে সরে যেত, বাজারে মানুষের যাতায়াত কম ছিল। কিন্তু এখন পুলিশের বা কারো তেমন কোন নজরদারি নেই তাই কেউ আর মানছে না সামাজিক দূরত্ব। প্রশাসনিক নজরদারি থাকলে মানুষের এরকম ভিড় দেখা যেত না, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতো না, হলেও দ্রুত কাজ সেরে ঘরে ফিরতো। কিন্তু দেখা যায় মানুষ অযথাই বসে আড্ডা দিচ্ছে, ঘুরছে, গণজামায়াতের সৃষ্টি করছে।

মিরসরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান বলেন, পুলিশি টহল কমেছে বিষয়টি ঠিক না, পুলিশি টহল পূর্বের মতো জোরদার রয়েছে। আমি এই মূহর্তে আবুতোরাব বাজারে আছি মাইকে সচেতনতা মূলক প্রচারণা চালাচ্ছি মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করছি কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করতে পারছি না সরকারের বিধি নিষেধ রয়েছে। সরকার বিভিন্ন সময় শিথিলতায় আসায় মানুষ সুযোগের অপব্যবহার করছে দোকান পাট খুলে ফেলেছে এই ফাকে মানুষ বেরিয়ে এসেছে ঘর থেকে ভিড় জমাচ্ছে সর্বত্রই। আমাদেরকে সর্তর্ক করতে বলা হয়েছে এর বাইরে অন্য কিছু করতে বলা হয় নাই। আমরা বাঙ্গালি আমাদের চরিত্র শক্তের ভক্ত নরমের জম যদি মানুষ সকর্ত না হয় কতোক্ষণ বলা যায়, সরকার, সাংবাদিক, পুলিশ সবাই বলতেছে কোন কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। তবে এটা পারে মোবাইল কোর্ট আমাদের ইউএনও সাহেব আমাদের এসিল্যান্ড সাহেব। উনারা যদি পদক্ষেপ নেন আমরা আইনি সহায়তা দিবো মোবাইল কোর্ট করে কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বাকিটা আমরা চেষ্টা করবো।

অন্যান্য উপজেলার তুলনা আমার মনে হচ্ছেন আমাদের এখানে মোবাইল কোর্টের কর্যক্রমটা একটু কম। মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমটা একটু বাড়ালে নিয়ন্ত্রন করাটা একটু সহজ হতো। মিরসরাই উপজেলা নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রচুর মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেছি গত দুই মাসে পুরো জেলায় আমরাই সর্বোচ্চ মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করেছি। কিন্তু আমাদেররকে মানুষ ফলো করে আমরা কোথাও গেলে তার খবর পেয়ে মানুষ সরে যায় দোকান পাট বন্ধ করেদেয় আবার ফিরে এলে দোকান পাট খোলা রাখে। এতো মোবাইলকোট পরিচালনা করলেও মিডিয়াতে কোন খবর না আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বালেন আমি প্রচার বিমুখ তাই সামাজিক মাধ্যম ও মিড়িয়াতে মোবাইলকোর্টের কোন প্রচার হয় না। সামনের কোর্টগুলোতে আপনারদের সম্পৃক্ত করবো যোগ করলেন।

মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, মোবাইল কোর্ট আমাদের প্রতিদিন পরিচালিত হচ্ছে, গতকালও কয়েকটি এলাকায় পরিচালিত হয়েছে। নতুন করোনা রুগি সনাক্ত হওয়ায় ওই বাড়িটি লগডাউনের জন্য করের হাট আক্রান্ত রুগির বাড়ি থাকায় বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে।

মিঠাছড়া বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাউল আলম জানান, গত বিশ দিন আগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিন দোকানকে জরিমানা করা হয়েছিল এর ভিতরে নতুন করে কোন মোবাইলকোট পরিচালনা করা হয়নি। মিরসরাই বাজার কমিটির সভাপতি মেয়র আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন বলেন করোনা ভাইরাস উপলক্ষে প্রথমদিকে কিছু মোবাইলকোট পরিচালনা করেলেও এখন নজরে আসেনি। তবে গত কয়েক বছরেও দেখিনি মোবাইলকোর্টকে বেজাল ঔষধ, বেজাল খাবারও ওজন নিয়ন্ত্রনে কাজ করতে।

আপনার মতামত লিখুন :