চকরিয়ায় গোলাপ ফুলের গ্রাম খ্যাত বরইতলী হারবাং-এ পর্যটনের হাতছানি

প্রকাশিত : ১০ জানুয়ারি ২০২১

বি এম হাবিব উল্লাহ, জেলা প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় গোলাপ ফুলের গ্রাম খ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়ন এখন জাতীয় অর্থনীতির টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।সারা বছর ফুল চাষ আর দেদারছে বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় বছর জুড়ে বর্তমানে ফুলের গ্রামের এ জনপদের দু’শতাধিক বাগান থেকে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার গোলাপ ফুল বিক্রি করছেন চাষীরা। দু’দশক আগে অনেকে শখের বসে ফুল চাষ শুরু করলেও এখন এ জনপদে অন্তত কয়েকশ একর জমিতে গোলাপ, গ্যাডিওলাস ও রজনীগন্ধা সহ বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ হচ্ছে।

ফুল চাষে স্বনির্ভরতা তৈরী হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তীর্ণ জমিতেও অনেকেই ফুল চাষে ঝুঁকছেন। ফুলের গ্রাম বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়নের অবস্থান কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া বির্স্তীন জমিতে। দু’দশক আগে থেকে সড়কের দু’পাশে ডানা মেলেছে গোলাপ বাগান। মহাসড়ক ধরে পথ চলতেই চোখ আটকে যায় যে কারও। দেখা মিলবে লাল গোলাপ পাপঁড়ি মেলেছে। চলার পথে থামতেই ভেসে আসে গোলাপের সুগন্ধ। গোলাপ চাষের কারণে ‘ফুলের গ্রাম’ খ্যাতি পেয়েছে বরইতলী ও হারবাং।বরইতলী ও হারবাং জনপদে শুরু হওয়া পরিবেশবান্ধব ফুলের চাষ নিঃসন্দেহে কৃষি ব্যবস্থার জন্য নতুন মাইলফলক। তামাকের বিকল্প হিসেবে ফুল চাষকে জনপ্রিয় করতে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। ফুল চাষের পরিধি আরও বাড়াতে ফুলের গ্রামকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন স্পট করার পরিকল্পনার কথা ভাবছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি বরইতলী ইউনিয়নের একাধিক গোলাপ বাগান ঘুরে দেখে স্থানীয় চাষীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান চকরিয়া ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরিজ। মতবিনিময় সভায় চকরিয়া উপজেলা

কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাছিম হোসেন ছাড়াও বরইতলী-হারবাং ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা এবং বাগান মালিক ও ফুল ব্যবসায়ীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুল তাবরিজ বলেন, ফুলের গ্রাম খ্যাত বরইতলী ও হারবাং ইউনিয়ন জাতীয় অর্থনীতির সাথে যুক্ত হচ্ছে।বর্তমানে এ জনপদের দু’শতাধিক বাগান থেকে বছরে অন্তত ১০ কোটি টাকার গোলাপ ফুল বিক্রি করছেন চাষীরা। আমরা চাই পরিবেশবান্ধব ফুলের চাষ বাড়াতে। ইউএনও বলেন, পরিকল্পনার অংশহিসেবে ফুল চাষের পরিধি আরও বাড়াতে এবং ফুলের গ্রামের এই জনপদকে পর্যটনবান্ধব স্পট করার জন্য কাজ করবে উপজেলা প্রশাসন। ফুল চাষে জড়িত রোজ গার্ডেনের মালিক মঈনুল ইসলাম বলেন, এখানকার গোলাপ পুরো চট্টগ্রাম বিভাগের চাহিদা পূরণ করে। বিশেষ সময়ে রাজধানীসহ অন্য জেলায়ও যায়। গোলাপের নির্দিষ্ট দাম নেই। বিশেষ দিনে এর দাম বাড়ে।

এখানে আগে অনেকে শখের বসে ফুলের বাগান করলেও এখন বেশিরভাগ মানুষ ফুল চাষকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। বাগান মালিকদের বলেন, বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতি একশো গোলাপ বাগান থেকে চার থেকে পাঁচশো টাকা দামে বিক্রি হয়। তবে বেশিরভাগ সময় প্রতি একশো গোলাপ ৫০ থেকে ৮০ টাকায়ই বিক্রি হয়। বছরের বিশেষ দিন যেমন-ভালোবাসা দিবস, ২১ ফেব্রæয়ারি, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, থার্টিফার্স্ট নাইট সহ এসব দিন গুলোতে বাগানের নানা জাতের ফুল সরবরাহ করা হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার শহরে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম নাসিম হোসেন জানান, বরইতলী ইউনিয়নে চলতি বছর ৬৬ হেক্টর জমিতে গোলাপ, ২৮ হেক্টরে গ্লাউডিলাস ও ১৬ হেক্টর রজনীগন্ধাসহ মোট ১১০ হেক্টর (২৭৫ একর) জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ হচ্ছে। চাষের সঙ্গে জড়িত আছেন পাচঁ শতাধিক চাষি ও হাজারের মতো শ্রমিক।তিনি বলেন, দু ‘দশক আগে অল্পপরিমাণ জমিতে ফুল চাষের সুচনা হলেও এখন দেখাদেখিতে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ফুল চাষে ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা।

বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার জানান, ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষক দীর্ঘসময় ধরে তামাক চাষ করতেন। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের উৎসাহে সাড়া দিয়ে তামাক চাষের কারণে পরিবেশগত ও শারীরিক ক্ষতির বিষয়টি জানতে পেরে তামাক চাষ ছেড়ে এখন ফুল চাষে আগ্রহ বাড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :