বারৈয়ারহাটে অবৈধ দোকান বাণিজ্যে মেয়র খোকন

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

আশরাফ উদ্দিন, (চট্টগ্রাম) মিরসরাই:

অনৈতিক কর্মকান্ডে ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেছেন মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকন। কোন নিয়ম-নীতি, বৈধ-অবৈধকে তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভাবে দখল করছেন সরকারী বেসরকারী মূল্যবান জমি। অবৈধ দখল কৃত জমিতে পৌরসভার নাম ব্যবহার করে করছেন ব্যাক্তিগত অবৈধ দোকান বাণিজ্য। পৌরসভার রক্ষক হয়ে নিজেই যেন ভক্ষকের ভুমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছেন। পৌরসভার মেয়র হিসেবে তিনি পৌরবাসীদের চলাচলের সুবিধার্থে ফুটপাথ দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করার কথা। উচ্ছেদ অভিযানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে ফুটপাথ, নালা, সড়ক-মহাসড়কের পথ সচল রাখার দায়িত্ব তার। কিন্তু তিনি বিপরীত ভুমিকায় অবর্তীণ হয়েছেন। উচ্ছেদ অভিযান চালানোতো দূরের কথা উল্টো তিনি নিজেই সড়ক-মহাসড়কের পাশ, ড্রেইন, ফুটপাথ দখল করে নির্মাণ করছেন স্থায়ী দোকান। এসব দোকানদারকে দিচ্ছেন তথাকথিত ট্রেডলাইসেন্স। দোকান বরাদ্ধ, ট্রেডলাইসেন্স ও মাসিক ভাড়া হিসেবে নিচ্ছেল লক্ষ লক্ষ টাকা। যেটি বছরে প্রায় কয়েক কোটি টাকার অংকে গিয়ে দাড়ায়। এসব টাকার খুব অল্প পরিমাণ জমা পড়ে পৌরসভার কোষাগারে। বৃহৎ অংশই চলে যায় পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকনের নিজের কাছে, নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট ও নগদে।
নাম প্রকশে অনিচ্ছুক একাদিক বারৈয়ারহাট পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ জমি দখল করে দোকান বাণিজ্যের কান্ডে মেয়র ও তার লোকজন ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হলেও পৌরসভার কোষাগারে পড়েনা কানাকড়িও। তাই পৌরসভার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তার অবৈধ কর্মকান্ড ও ব্যাবসায়-বাণিজ্য পরিচালনা করার জন্য পৌরসভাতেই রেখেছেন ব্যাক্তিগত লোকবল। মেয়রের এসব ব্যাক্তিগত লোকবল তথাকথিত ট্রেডলাইসেন্স হালনাগাদ, দোকান বরাদ্ধ ও মাসিক ভাড়া আদায় করে মেয়রের ব্যাক্তিগত কোষাগারেই অর্থ জমা করেন।
বারৈয়ারহাট পৌর বাজারের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে থাকা জোরারগঞ্জ থানার টিআই আশরাফ জানান, ফুটপাথে বসা বেশির ভাগ দোকানদারের কাছে পৌরসভার একধরণের ট্রেডলাইসেন্স আছে তারা মাসিক ভাড়া দেয় পৌরসভাকে। তাই ইচ্ছে করলেও তাদের সরানো সম্ভব হয়না। তবে যখন একেবারে যানবাহন চলাচলের পথবন্ধ হয়ে যায় তখন তাদের সরিয়ে দিয়ে গাড়ি চলাচলের পথ সচল রাখা হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলি রোকউদ্দিন খালেদ জানান, মহাসড়ক দখল করে দোকান নির্মানে বাধা দিতে গেলে মেয়র রেজাউল করিম খোকন সড়ক ও জনপদ বিভাগের চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা সহ উদ্ধোতন কর্মকর্তাদের সাথে অসৌজন্য মুলক আচরণ করেন। এছাড়া জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তা চাওয়া হলে তারা ঘটনা স্থলে এলেও মেয়রের মারমুখি আচরণ দেখে পুলিশ ঘটনা স্থল ত্যাগ করে।
সাম্প্রতিক মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন সড়কে চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করে ছোট ব্যাবসায়িদের সতর্কতামূলক জরিমানা করাহলেও বারৈয়ারহাট পৌরসভা মেয়র খোকন সড়কের জমি দখল করে অবৈধ দোকান নির্মান করলেও প্রসাজনের নজরে আসেনি। স্থানিয়দের অভিযোগ ছোট ব্যাবসায়িদের ক্ষমতা নেই বলে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় আর মেয়রের ক্ষমাতা আছে বলে প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। এমন অভিযোগের উত্তরে মিরসরাই ভুমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মিনহাজুর রহমান জানান, বিষয়টা ঠিক এমন নয়। আইন সবার জন্য সমান। তবে মেয়রের অবৈধ দোন নির্মানের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে ছিলনা। এখন আমরা জানতে পেরেছি সময় মতো উপযুক্ত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরীন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। মেয়র যদি অবৈধ দোকান নির্মানের মধ্যদিয়ে জন দূর্ভোগ সৃষ্টি করেন এটা দুখের ব্যাপার। আমারা খোজ খবর নিয়ে উপযুক্ত ব্যাবস্থা নিবো।
এব্যাপারে বারৈয়ারহাট পৌর মেয়র রেজাউল করিম খোকন জানান, সড়ক ও জনপদের আপত্তির স্থানে পূর্বেও দোকান ছিল। বিভিন্ন জনে বিভিন্ন ভাবে সেখান থেকে সুবিধা নিতো। আমি একই স্থানে পৌরসভার পক্ষ থেকে দোকান নির্মাণ করে পৌরসভার আয়ের একটা ব্যাবস্থা করছি। এখন উচিত অনুচিত সেটা আপনারই ভালো বলতে পারবেন। আমি সেটা বলতে পারবো না। সরকারী কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে ব্যাক্তিগত লোকজন ব্যাবহার করে আর্থিক লেনদেন ও ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবানে বিষয়ে তিনি বলেন। এমন অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। আপনি সরজমিনে এসে আমার পৌরসভায় তদন্ত করে দেখতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন :