মিরসরাইয়ে প্রতি ৩ মোটরসাইকেলের ২টি অবৈধ

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০২২

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই:

মিরসরাইয়ে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ মোটরসাইকেলের ব্যাবহার। উপজেলায় ব্যাবহৃত প্রতি ৩টি মোটরসাইকেলের মধ্যে দুটিই অবৈধ। এসব অবৈধ মোটসরাইকেল ব্যাবহার হচ্ছে অপরাধ কর্মকান্ডে। রেজিষ্ট্রেশন বিহিন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে পুলিশের কোন অভিযান না থাকায় চোরাই মোটরসাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে উপজেলা ঝুড়ে।
প্রশাসনিক নিরাবতায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় উঠতি বয়সের কিশোর গ্যাং, স্কুল-কলেজের বেশির ভাগ ব্যাপরোয়া রাজনৈতিক কর্মীরা ব্যবহার করছে এসব চোরাই ও রেজিষ্ট্রেশন বিহিন মোটরসাইকেল। সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে ১৫ বছরের কিশোর থেকে ২৫ বছরের যুবকদের শত করা ৯০জন রেজিষ্ট্রেশন বিহিন চোরাই মোটর সাইকেল ব্যাবহার করছে। আর এসব চোরাই মোটরসাইকেল বেশির ভাগ বিলাশি ও দামি অথচ ব্যবহারকারীদের কোন আয়ের উৎস নেই। উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকরা এসব মোটর সাইকেল ব্যাপরোয়া ভাবে সড়কে প্রদক্ষিণ করে, স্কুল কলেজের সামনে দাড়ীয়ে হিরো সাজার চেষ্টা করে ও স্কুল কলেজের ছাত্রীদের ইভটিজিং করে। সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে।
সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া বেশ কিছু চুরি, ছিনতাইয়ে দেখা গেছে চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যাপক ব্যাবহার। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল ব্যাবহার করে সাম্প্রতিক মিরসরাইয়ে এক প্রবাসীকে অপহরনের ঘটনাও ঘটেছে। রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলের সহজ ব্যাবহার মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটকে চুরিতে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। যাদের মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে এমন কয়েকজন ভুক্তিভোগি অভিযোগ করে বলেন, রেজিষ্ট্রেশ বিহীন ও ডিজিটাল নাম্বার প্লেট বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান থাকলে কারো মোটরসাইকেল চুরি হতো না। কিন্তু পুলিশের নাকের ডগায় রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল দাপড়িয়ে বেড়ালেও রাজনৈতিক ও রহস্যজনক কারনে নীরব ভুমিকা পালন করে। এসব মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মহাসড়কে ছিনতাই ডাকাতি নিত্য ব্যাপার। মোটরসাইকেলে করে ইয়াবা, গাঁজা সহ বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ অস্ত্র বহন করে মাদক কারবারীরা।
মিরসরাইয়ের সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক উদাসীনতার কারনেই রেজিষ্ট্রেশন বিহীন ও চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যাবহার মারাতœক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চোরাই মোটরসাইকেল অবাধে ব্যবহারের সুযোগ থাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে মোটরসাইকেল চুরি।
মিরসরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। মোটরসাইকেল আটক পরবর্তী ট্রাফিক সার্জেনের মাধ্যমে মামলা দেয়া হয়। তবে এই পর্যন্ত কয়টি চোরাই ও রেজিষ্ট্রেশনবিহিন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন হিসেব করে বলতে হবে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান জানান, ৭ থেকে ৮ মাস আগে রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় একটি রেজুলেশন করে ৮দিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সকল ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলদের অবগত করা হয় যেন ৩ মাসের মধ্যে সকলেরর মোটরসাইকেলের কাগজ পত্র ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে অপরাধ প্রবণতা বাড়ায় এটি পুনরায় চালু করা হবে।

আশরফ উদ্দিন, মিরসরাই, চট্টগ্রাম ০১৭৫৮০৩১০৬১

আপনার মতামত লিখুন :