মিরসরাইয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরির ঘটনা

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০২২

আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই:

মিরসরাইয়ে সাম্প্রতিক বৃদ্ধি পেয়েছে চুরির ঘটনা। একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ জনমনে। মিরসরাই গোভনীয়া এলাকার ৫ শ গজের মধ্যে গত এক মাসে ঘটেছে ৪টি চুরির ঘটনা। ৪ ঘটনায় ৪ টি মোটরসাইকেল ও দুটি লোহার গ্যারেজের বিপুল পরিমাণ মালামাল চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় চোরাইকৃত মালামালের মূল্য প্রায় ৮ লাখ টাকা।
চুরির ঘটনাগুলির মধ্যে মাত্র ১ টি ঘটনা থানায় জিড়ি আকারে নিয়া হলেও বাকি ৩টির কোন অভিযোগ থানায় আসেনি।
সোমবার (১৯ নভেম্বর) ভোরে মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বাদামতলী বাজারে পারভেজের গ্রীলের দোকান থেকে দেড় লক্ষ টাকার মালামাল ট্রাকে করে নিয়ে যায়। এর আগে গত ২৭ অক্টোবর একই কায়দায় একি বাজারের তসলিমের লোহার গ্যারেজে থেকে প্রায় ১ লক্ষ ষাট হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। এছাড়া গত ১৭ নভেম্বর মিরসরাই ডাকবাংলো এলাকার মোস্তফা ম্যানসনের গেইটের তালা, সিসি ক্যামেরা ও মোটরসাইকেলের লক ভেঙ্গে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে যায় । একই সময় সওজ ডাক বাংলো থেকে মিরসরাই প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিনের মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যায়। এক রাতে ৩ টি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় থানায় সন্দেহ জনক পেশাদার ৬ মোটরসাইকেল চোরের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ তা পরিবর্তন করে জিড়ি আকারে গ্রহন করে। এর কিছুদিন পূর্বে পশ্চিম গোভনীয়া থেকে একটি পালচার মোটর সাইকেল চুরি হয়। চুরি হওয়া এসব মোটরসাইকেলের মূল্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।
একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোভনীয়া এলাকায়। রাত নামতেই গেরস্থরা চোরের ভয়ে বাড়িঘর পাহারা দিয়ে শেষ রাতে ঘুমাতে গেলেই চুরি হয়ে যাচ্ছে দোকান ঘর ও বাসাবাড়ির মূল্যবান মালামাল। ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছর শীতের শুরুতেই চুরির ঘটনা মারাত্মক আকার ধারন করে। চুরির ঘটনার বেশ কয়েকটি বিড়িও ফুটেজে চোরদের চিহ্নিত করে থানা পুলিশকে তাদের নাম ঠিকানা দেয়া হলেও রহস্যজনক কারনে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। চট্রগ্রামের বাইজিদ থানা, আকবর শাহ থানা সহ একাধিক থানার বিভিন্ন মামলায় শহরের পুলিশ চিহ্নিত চোর সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্যকে মিরসরাই থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তারা জেলে থাকার কারনে গত ৭ থেকে ৮ মাস মারসরাইয়ে চুরি ছিনতাই একপ্রকার বন্ধ ছিল। কিন্তূ সাম্প্রতিক চিহ্নিত ওইসব চোর সিন্ডিকেটের সদস্যরা জামিনে ফিরে এসেছে। জামিনে আসার পর থেকেই গত ১ মাসে ব্যাপক হারে আবারো চুরি ছিনতাই শুরু করেছে তারা। এসব চোরদের ব্যাপারে মিরসরাই থানা সহ ফেনী ও চট্রগ্রামের বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে।

মিরসরাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কবির হোসেন জানান, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে বেশ কয়েকজনকে সনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যে জেলে পাঠানো হয়েছে। চোরদের আটক করে জেলে পাঠালে তাদের জামিন হয়ে যায়। জামিনে এসে তারা চুরির কৌশল পরিবর্তন করে আবারো চুরিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া শনাক্তকৃত ও সন্দেহজনকদের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :