ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : ৯ দিন পর হেফাজতের নিন্দা

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

গত ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে আগুনে পুড়ে লণ্ডভণ্ড হওয়ার নয় দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (৫ এপ্রির) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় এবং জেলা শাখার নেতারা এই প্রতিক্রিয়া জানান।

এ সময় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, আমাদের অবস্থান ছিল একমাত্র মাদ্রাসার সামনে। হামলা ভাঙচুরের মতো এই ন্যক্কারজনক ঘটনা কে বা কারা করেছে আমাদের জানা নেই। প্রেসক্লাব, ভূমি অফিসসহ কোনো কিছুতেই আক্রমণ চলবে না বলে আমরা নির্দেশনা দিয়েছিলাম। যারা এই কাজ করেছে আমরা তার নিন্দা জানিয়েছিলাম। আজকেও নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদের বের করা প্রয়োজন। এটা সবার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে, ভাঙচুর করে, তারা আমাদের সংগঠনের কেউ হতে পারে না। ঘটনার উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করা দরকার। যারা ভাঙচুর করেছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘আমরা আগে যেমন ভাই ভাই ছিলাম, আজকের পর থেকেও আমরা সাংবাদিক-হেফাজত উলামারা ভাই ভাই হিসেবে থাকব। আপনাদের কাছে অনুরোধ বিবেকবান জাতি হিসেবে আপনারা সঠিকভাবে সত্য ঘটনা তুলে ধরুন।’

অনুষ্ঠানে সংগঠনের জেলা শাখার সেক্রেটারি মুফতি মোবারক উল্লাহ বলেন, আমাদের এবং আপনাদের মধ্যে কোনো ধরনের দূরত্ব নেই। আমরা আপনাদের কোনোভাবেই প্রতিপক্ষ মনে করি না। একসঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে আসছি। পরস্পরের সহযোগিতার মাধ্যমে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব হয়েছে এটা আমার জানা নেই। আমরা হামলা-ভাঙচুরের কাজ করি নাই। হরতালের দিন মিছিল নিয়ে সকালে প্রেসক্লাবের দিকে আসি। সেখান থেকে ফিরে গিয়ে দোয়া মাহফিলের মধ্যে আমাদের কার্যক্রম শেষ করি। পরে কে বা কারা কীভাবে এসে ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা পরে জানতে পেরেছি। তবে আমাদের কেউ এ ধরনের কাজ করে নাই। এই ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি ঘটনার নিন্দা জানান ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা আলী আজম, মুফতি বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মুফতি নোমান হাবিবী, মাওলানা বোরহান উদ্দিন আল মতিন, মুফতি মুহাম্মদ এনামুল হাসান, মুফতি জাকারিয়া, মাওলানা তানভীর আহমেদ ও মুফতি আসাদুল্লাহ কাসেমী।

আপনার মতামত লিখুন :