বরূপকাঠিতে ঠিকাদারের অবহেলা ১৭ মাস পরে বিদ্যালয়ে গিয়েও শ্রেনী কক্ষে বসতে পারেনি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির গনমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মুনিয়া ও নেছার বিদ্যালয় থেকে মুখ বিমর্ষবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বাসায়। কারন জানতে চাইলে তারা উত্তর দেয় করোনার দীর্ঘ বন্ধের পরে স্কুল খোলায় ক্লাস করার আনন্দে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসছিল তারা। কিন্তু বিদ্যালয়ে বসার জায়গা না থাকায় ক্লাস না করেই তাদেরকে ফিরে যেতে হচ্ছে বাড়িতে।

এ বিষয়ে জানার জন্য রোববার সকালে সরেজমিনে উপজেলার গনমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় শরীরের তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করানো হচ্ছে। প্রতিবেঞ্চেই দুজন করে বসিয়ে অণ্য শিক্ষার্থীদের বাড়ী পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। অন্যদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজমিন আক্তার বলেন, নিদৃষ্ট দুরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের বসানোর জায়গা বিদ্যালয়ে সংকুলান না হওয়ায় সকল শিক্ষার্থীদের আমরা বিদ্যালয়ে বসাতে পারিনি। তাই অনেক শিক্ষার্থীকেই বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে। তবে ফিরিয়ে দেয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় শিপ্টে আলাদাভাবে ক্লাস নেয়া হবে।

জানাযায়, ওই বিদ্যালয়ের স্থান সংকুলানের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মানের পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু বিদ্যালয়টি সন্ধ্যা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় এলাকার মাটি পরীক্ষা করে জায়গাটি ওই ভবনের জন্য অনুপযোগী বলে জানান কর্তৃপক্ষ। পরে কর্তৃপক্ষ ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ৩৮ টাকা ব্যায়ে দুই স্থানে একটি তিন কক্ষ ও একটি দুই কক্ষ বিশিষ্ট ষ্টীল ষ্ট্রাকচারের টিন শেড ভবন নির্মানের জন্য ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কার্যাদেশ দিয়ে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়। মেসার্স রূপালী ট্রেডার্স, নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই কাজ পায়। তার কাছ থেকে অথরাইজ লেটারের মাধ্যমে কাজ করার কার্যাদেশ নেন তন্ময় কর্মকার নামে স্বরূপকাঠির এক ঠিকাদার । কাজ নিয়ে তন্ময় কর্মকার মেঝে লেভেল পর্যন্ত কাজ করে গত জানুয়ারী মাসে। এর পর থেকে তারা আর কাজের সাইডে আসেনি।

প্রধান শিক্ষিকা অভিযোগ করেন, ঠিকাদার ওয়াস রুম ব্যবহারের জন্য চাবী নিয়ে সেখানে তার নির্মানের সরঞ্জামাদী রাখেন। জানুয়ারী মাসে তারা কার্যস্থল ত্যাগ করার সময় ওই চাবীও শিক্ষকদের কাছে হস্তান্তর করেনি। করোনা কালীন শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অফিসিয়াল কাজে এসে ওয়াস রুম ব্যবহার করতে না পেরে মানবেতর সময় পার করেছেন। ঠিকাদারের কাছে চাবী চাইলে তন্ময় কর্মকার প্রধান শিক্ষকের সাথে অত্যন্ত আপত্তি জনক ভাষায় দুর্ব্যবহার করে।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ইউসুফ আলী বলেন, ওই বিদ্যালয়টির মাত্র দুটি শ্রেনী কক্ষ শিক্ষার্থীদের সংখ্য অনেক যে কারনে নতুন ভবন নির্মানের পরিকল্পনা। আমরা বার বার প্রকৌশল দফতরে তাগিদ দিয়েছি। হচ্ছে হবে বলে সময় পার হয়ে যাচ্ছে। পাঠদানের লক্ষে শিক্ষার্থীদের আসন সংকুলানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মির আলী শাকির বলেন, কাজটি বরিশালের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রূপালী ট্রেডার্স পান। তাদের কাছ থেকে অথরাইজ লেটারের মাধ্যমে কার্যাদেশ নেন তন্ময় কর্মকার। তাদেরকে বার বার মৌখিক ও লিখিত ভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কার্যাদেশের চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার কথা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১। এখন পর্যন্ত তাদের কোন পেমেন্ট দেওয়া হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যাতে কাজ শেষ করে সে লক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :