কলাপাড়ায় দুই মুক্তিযোদ্ধার মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০২০

কলাপাড়া প্রতিনিধি:
কলাপাড়ায় দুই অ-স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা সরকারের দেয়া সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এক জনের নাম মুক্তিবার্তায় রয়েছে অন্যজনের নেই। এক জন পক্ষাঘাত রোগে অসুস্থ অন্যজন দিনমজুর। তাদের সংসার চলছে কোনো রকম। রোগের ঔষধ পত্র চলছেনা। যে বীর যৌবনে দেশ মাতৃকার টানে ঝাপিয়ে পড়ছিল হায়নাদের বিরুদ্ধে দেশকে উদ্ধার করতে।

নানা জটিলতা কিংবা উপযুক্ত তদবিরের কারনে বার বার পিছিয়ে যাচ্ছেন ভাতাদী পেতে। বঞ্চিত রয়েছেন স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে। তৎকালীন পটুয়াখালী জেলার বামনা থানার পশ্চিম সফিপুর গ্রামের মৃতঃ আর্শ্বেদ আলী শিকদারের ও মাতা গোলবড়–র কোল জুড়ে ১৯৩৮ সালে জন্ম গ্রহন করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক শিকদার। বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার পূর্ব ডালবুগঞ্জ গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়। দেশ রক্ষা বিভাগ স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদ পত্র ।

নাম মোঃ নূরুল হক শিকদার, পিতা আর্শ্বেদ আলী শিকদার , গ্রাম পশ্চিম সফিপুর থানা, বামনা জেলা, পটুয়াখালী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরাঙ্গনা সৈনিক। তিনি ০৯ নম্বর সেক্টরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাঁর অবদান চির উজ্বল হয়ে রইবে। মুহম্মদ আতাউল গনি ওসমানী অধিনায়ক, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী।

অনুরুপ বাংলাদেশ আর্মিড ফোর্সেস ০৯ সেক্টর। এই সেক্টরে অধীনে যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তাতে স্বাক্ষর রয়েছে মেহেদী আলী ইমাম, ক্যাপ্টেন, সাব-সেক্টর কমান্ডার পটুয়াখালী।

অথচ মুক্তিবার্তা কিংবা অন্যকোন ভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তাঁর নাম নেই। আরেক জন আঃ ছত্তার শিকদার পিতা মৃতঃ ওহাব শিকদার বরগুনা জেলার কুমড়া খালী গ্রামে ১৯৫৩ সালে জন্ম গ্রহন করেন বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার পূর্ব ডালবুগঞ্জ গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। তার দেয়া তথ্যে দেখা যায়, মুক্তিবার্তা/ ভারতীয় তালিকা নম্বর ০৬০৬০৪০২১৮ (লাল) মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদান সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভার কার্য বিবরনিতে উল্লেখ রয়েছে।

কলাপাড়া সমাজ সেবা অফিসার কলাপাড়া পটুয়াখালী এর স্মারক নং ৪১.০১.৭৮৬৬.০০০৮.০০১.১৯.১৪৬ তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিঃএর প্রেক্ষিতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন কমিটি কলাপাড়া ,পটুয়াখালী এর ০৩.১১.২০১৯ খ্রিঃ সভার কার্য বিবরনী মোতাবেক (ক) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন ভাতা পাওয়ার জন্য সুপারিশকৃত আবেদন ০২ (দুইটি) আবেদনের ওপর আলোচনা ও পর্যালোচনান্তে সঠিক প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের অনুকুলে বরাদ্ধ প্রদানের জন্য সুপারিশ সহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে প্রেরনের সিন্ধান্ত গৃহীত হয় ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ মতিউল ইসলাম চৌধুরী জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী ও সভাপতি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন কমিটি পটুয়াখালী। তারিখ ১৬/০৪/২০২০। পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ ছত্তার জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর অতিক্রান্ত হলেও বুক ভরা আশা নিয়ে বেঁচে আছি। আমার শেষ আশা বেঁচে থাকতে সরকারের দেয়া ভাতা পেয়ে মরতে চাই। অপর দিনমজুর বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল হক শিকদার জানান, মরার আগে দেখতে চাই আমার নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় উঠেছে। তা না হলে মরেও যেন শান্তি পাবোনা।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও যুদ্ধকালীন থানা আক্রমন কমান্ডার হাবিবুল্লাহ রানা জানান, কাগজ পত্র দেখে বলা যাবে কেন বাদ রয়েছে।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু হাসানাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক জানান, বিষয়টি আমি দেখছি, আইনগত ব্যবস্থা নেব।

আপনার মতামত লিখুন :