এবার বরিশালে তিন কন্যার নাম রাখা হলো স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০২২
সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয়া তিন কন্যা সন্তান।

ভোরের দর্পণ ডেস্কঃ

এবার বরিশালে এক মায়ের কোল জুড়ে জন্ম নিয়েছে তিন কন্যা সন্তান। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন মুহূর্তে জন্ম নেয়ায় সদ্যজাত ওই তিন শিশুর নাম রাখা হয়েছে স্বপ্ন-পদ্মা ও সেতু।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর সদররোডে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এই তিন কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয়া তিন কন্যা সন্তান ও তাদের মা ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের ডা. মুন্সী মুবিনুল হক।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে এক মায়ের কোলজুড়ে জন্ম নেয়া তিন কন্যা সন্তানের নামকরণ করা হয় স্বপ্ন-পদ্মা ও সেতু। অর্থাৎ স্বপ্নের পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর নামে নাম রাখায় পুরস্কৃত হয়েছেন তাদের মা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি গ্রামের বাসিন্দা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক বাবু সিকদারের স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগমকে (২১) বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর সদররোডে ডা. মোখলেছুর রহমান (প্রা.) হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

এর পরপরই জরুরি ভিত্তিতে ডা. মুন্সী মুবিনুল হক অস্ত্রোপচার করেন। সিজারিয়ানের মাধ্যমে ওই মা তিন কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এদের মধ্যে দুইজনের ওজন দেড়কেজি এবং একজনের ১ কেজি ৪ শত গ্রাম। তারা সবাই যথাসময়ে সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী ওই চিকিৎসক।

এদিকে এক সাথে তিন সন্তানের বাবা হতে পেরে খুশি সদ্যজাত কন্যাদের বাবা বাবু সিকদার। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু উদ্বোধনের মাত্র দুইদিন আগে আমার তিন কন্যা সন্তান পৃথিবীর মুখ দেখেছে। তাদের নিয়ে অনেক স্বপ্ন রয়েছে আমাদের। আমার তিন কন্যা সন্তান যেভাবে আমাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তেমনি পদ্মা সেতু পেয়েও আমরা

 

অবশেষে তিন সন্তানের নাম রাখলাম স্বপ্ন-পদ্মা ও সেতু। তারা যেন বড় হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে পারে এই কামনা করছি। আর আল্লাহ্ যেন আমাদের সংসারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। এজন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি। আল্লাহ্ যেন আমাদের তিন সন্তানকে সুস্থ রাখেন।

বাবু সিকদার বলেন, আমার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে ইসলামিয়া হাসপাতালে ডা. তানিয়া আফরোজকে দেখিয়েছিলাম। ডেলিভারির সময় ঘনিয়ে আসায় বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। এরপর ডা. তানিয়া আফরোজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিকেল ছাড়া সময় দিতে পারবেন না বলে জানান। কিন্তু স্ত্রীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমরা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্সী মুবিনুল হকের স্মরণাপন্ন হই। তিনিই সফলভাবে সিজার করেন।

এদিকে তিন কন্যা সন্তানকে নিয়ে বেশ খুশি তাদের নানী তাসলিমা বেগম ও দাদী মমতাজ বেগম। জন্ম নেয়ার পরপরই তিন নাতিনকে কোলে তুলে নেন তারা। তারাও সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন নাতনিদের জন্য।

আপনার মতামত লিখুন :