আনসারের গুলিতে চোখ হারানো সেই দুই আ.লীগ নেতার জামিন

প্রকাশিত : ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসার সামনে আনসার সদস্যদের গুলিতে চোখ হারানো আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বরিশালের  অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাসুদ বিল্লাহ। 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মাসুদ বাবলু এবং আমার জিম্মায় ১০ হাজার টাকার বন্ডে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন- নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভির আহসান।

তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, আসামিরা পুলিশ হেফাজতে দীর্ঘদিন ঢাকার চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এই দুইজনের জামিনের মধ্য দিয়ে দুটি মামলায় আর কোনো আসামির জামিন বাকি রইলো না।

এই জামিনের মাধ্যমে সমঝোতার শতভাগ অগ্রগতি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মামলা তদন্তাধীন। একটি পর্যায়ে প্রতিবেদন দাখিল শেষে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সমাপ্তি হবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যে দুটি মামলা করা হয়েছে তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের কাছে তদন্তাধীন আছে।

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর ১২ নেতাকর্মীর জামিন দেন আদালত। তার আগে ২৫ আগস্ট ওই দুই মামলায় আওয়ামী লীগের ৯ নেতাকর্মীকে জামিন দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে ইউএনও এবং পুলিশের মামলায় আওয়ামী লীগের ২৩ নেতাকর্মী জামিন পেলেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে ঘটনার দিন থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান হতে গ্রেফতার করেছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনে হামলার অভিযোগে সিটি করপোরেশন ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেন ইউএনওর নিরাপত্তারক্ষী আনসার সদস্যরা।

তাদের ছোড়া গুলিতে চোখ হারান নগরীর ২৩ নস্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির, ১৬ নস্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান এবং কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আতিকুর রহমান রায়হান। ঘটনার পর থেকে তারা তিনজনই ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এদিকে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশ ও ইউএনও বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান করে মোট ৬০২ জনকে আসামি করা হয়।

২২ আগস্ট ইউএনও এবং কোতোয়ালি থানার ওসিসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। আদালত পিবিআইকে ওই মামলার তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

যদিও ২২ আগস্ট রাতে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্ততায় দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘অনাকাঙিক্ষত’ উল্লেখ করে সমঝোতা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :