মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে ইলিশ শিকারের ২২ দিনের অবরোধ

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২১

সাকিল আহমেদ, পাথরঘাটা (বরগুনা)প্রতিনিধি:

রাত ১২টার পর শেষ হচ্ছে ২২ দিনের অবরোধ। রূপালি ইলিশ শিকারের আশায় রাত ১২টার পরেই হাজার হাজার জেলে সাগরে উদ্দেশ্যে রওয়না হবে।

বরগুনার পাথরঘাটাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে জাল, নৌকা ও ট্রলার মেরামত করে প্রস্তুত রেখেছেন। ট্রলারে বাজার-সওদা, বরফ ভর্তি করে অপেক্ষা করছেন জেলেরা।

এদিকে সাগরে নিষেধাজ্ঞা কেটে যাওয়ার আগেই পাথরঘাটা উপজেলার জেলেপাড়াগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য ঘাটে বেড়েছে জেলে-পাইকার-আড়তদারের আনাগোনা। দীর্ঘদিন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ বন্ধ থাকায় এবার বেশি মাছ পাবেন বলে আশা করছেন জেলেরা।

জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২২ দিন সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে বেকার বসে থেকে ধার-দেনা করে চলতে হয়েছে সমুদ্র উপকূলীয় জেলেদের। আজ প্রস্তুতির শেষ দিনে জেলেরা নতুন করে বিনিয়োগ করে সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

আড়ৎদার মারুফ হোসেন জানান, অবরোধ শেষ তাই আড়ৎ নতুন করে সাজাচ্ছি । নতুন করে আবার ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি ইলিশ বিক্রির জন্য। আশা করছি আগে তুলনায় এবার বেশি ইলিশ ধরা পরবে।

 

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ভোরের দর্পনকে জানান, অবরোধের সময়ের মধ্যে জাল, ট্রলার মেরামত করে সাগরে যাবার উপযুক্ত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মধ্য রাতেই সাগরের উদ্দেশে রওনা হবে উপকূলের ট্রলারগুলো। এবারও বরগুনার জেলেরা শতভাগ সরকারের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে কোনো জেলেকে নদী-সাগরে জাল ফেলতে দেখা যায়নি। ইলিশ প্রজনন ঘটাতে সরকার সফল হয়েছে। এখন জাটকা রক্ষা করতে পারলে আগামীতে ইলিশ আরো কয়েক গুণ বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে অবরোধের সময়সীমা একসঙ্গে নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানাই।

পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্তু কুমার অপু জানান, ৩ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন সরকার। রাত ১২টার পর থেকে ইলিশসহ অন্য সব ধরনের মাছ শিকারে আর কোনো বাধা নেই।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ আল-মুজাহিদ ভোরের দর্পনকে জানান, ইলিশ প্রজননের সময়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছি যাতে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করা যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। আমরা জাটকা রক্ষায় সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করব এবং জাটকা রক্ষায় জেলেদের উদ্ভুদ্ধকরণ এর পাশাপাশি নৌ টহল জোরদার করা হবে। যাতে অসাধু জেলেরা জাটকা শিকার করতে না পারে।

আপনার মতামত লিখুন :