৩০ বছরেও ভাগ্য ফেরেনি পাথরঘাটা পৌরবাসীর

প্রকাশিত : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর তীরে ৩৮৭.৩৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা। উপজেলা সদরে ১৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনে ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পাথরঘাটা পৌরসভা।

এই শহরে প্রায় সাতাশ হাজার লোক বাস করে। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরে বেশ কয়েকজন নগরপিতা পেয়েছে পৌর বাসী। ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে ৩ দশকে। ২০১২ সালে পাথরঘাটা পৌরসভা ২য় শ্রেনীতে উন্নিত হলেও সুপরিকল্পিত মাস্টার প্ল্যান না থাকায় এ শহরে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, অপ্রতুল সড়কবাতি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, সুপেয় পানির সংকট, মশার উপদ্রব সহ যানজটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। এ সমস্যা সমাধানে নেই কোনো উদ্যোগ।

পাথরঘাটা পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে চোখে পড়ে নাগরিকদের দুর্ভোগের নানা চিত্র। পৌরসভার ভিতরেই উপজেলার বৃহৎ বাজার। ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই ফলে বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় বাজার, দোকান, পথ-ঘাট, আবাসিক এলাকাসহ উপজেলা পরিষদ চত্বর।

পাথরঘাটা পৌরসভার ভিতরে রয়েছে বেশ কয়েকটি দীঘি বা জলাধার। সুন্দর এই জলাধার গুলো সংস্কারের অভাবে পরিনত হয়েছে বদ্ধ নরদোমায়। মশা প্রজননের ক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে জলাধার গুলো। জলাধার গুলোর পানিও ব্যবহার অনুপযোগী। নেই শৌচাগারের ব্যবস্থাও।

এই পৌরসভাটি সাগরের তীরবর্তী হওয়ায় নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ১৭ কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সরবরাহ করা হয় যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। নেই ২৭ হাজার নাগরিকের শহরে গাড়ি রাখার মতো নিজস্ব কোনও পার্কিং ব্যবস্থা। অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট এবং সড়কের ওপর অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজট এখানে নিত্য দিনের সমস্যা। পৌর ভবন থেকে শুরু করে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, অপরদিকে শহরের জিরো পয়েন্ট শেখ রাসেল স্কয়ার থেকে কলেজ রোড ও শহরের অলিগলিতে গাড়ি পার্কিং করায় প্রতিদিন যানজটের কবলে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।

এই পৌর শহরে ছয় হাজার আবাসিক ও প্রায় হাজার খানেক ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও কোথাও নেই ময়লার ভাগাড়। তাই যে যেখানে পারছে ময়লা ফেলছে। সে কারনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে স্তূপাকারে আছে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ, উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা ময়লা-আবর্জনা। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধে নাকাল হতে হচ্ছে প্রতিদিন।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ জানান, যানজট নিরসনে অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নিতে পরিকল্পনা আছে। শিগগির শহর থেকে অবৈধ স্ট্যান্ড সরিয়ে নেওয়ার এমন পরিকল্পনা উপজেলা পরিষদ নিয়েছে। এর জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও শহরের দীঘি গুলো সংস্কারের কাজ ইতি মধ্যে শুরু হয়েছে। এগুলো যাতে দৃষ্টি নন্দন ও আকর্ষণীয় হয় এদিকে নজর দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পৌরশহরের প্রধান সড়কের পাশাপাশি শহরের ১ ও ২ নং ওয়ার্ডের বেরিবাঁধ সড়ক, ৩ নং ওয়ার্ডের খারাকান্দা সড়ক, ৪ নং ওয়ার্ডের হল রোড ও আশেপাশের এলাকা, ৫ নং ওয়ার্ডের সবকয়টি সড়ক, ৬ নং ওয়ার্ডের বিএফডিসি সড়ক, কলেজ সড়ক, ৭ নং ওয়ার্ডের দীঘির পাড়, ৮ নং ওয়ার্ডের কাশ্মীর সড়ক, ৯ নং ওয়ার্ডের সাহাদাত নগর মাদ্রাসা সড়কসহ ৬০ ভাগ রাস্তা এখনও ভাঙাচোরা। এ সব সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

পৌর শহরের এতো দুর্ভোগের বিষয়টি অপকটে শিকার করে পাথরঘাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন আকন জানান, অপ্রতুল বাজেট ও জনবল সংকটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণকে। শহর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। দু’এক মাসের মধ্যেই এর কার্যক্রম শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন :