তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে : রিজভী

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

পবিত্র ইসলাম ধর্ম নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যে দেশে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার দেশকে চরম দুর্দিনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্যের পর সারাদেশে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ গুলি চালাচ্ছে, রক্তপাত হচ্ছে। গতকাল চৌমুহনীতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে আজ ১৪৪ জারি করেছে প্রশাসন। কেন এই পরিস্থিতি?’

তিনি বলেন, ‘এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই সরকারের সকল অপকর্ম, সকল জনবিরোধী কর্মকাণ্ড, রক্তপাত, গুম-খুন সবকিছু আড়াল করার জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। সরকারের নীল নকশারই একটা অংশ কুমিল্লার ঘটনা।’

রিজভী আরো বলেন, ‘এদেশের কোনো মুসলমান বা হিন্দু এই ঘটনা ঘটাবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ। এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই রামু, উখিয়া, টাঙ্গাইল ও পাবনায় হিন্দুদের উপর আক্রমণ হয়েছে এবং তাদের সম্পত্তি লুট করা হয়েছে। বিএনপি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কোনো সংখ্যালঘু বা হিন্দুদের মন্দিরে হামলা হয়নি। তাদের ধনসম্পত্তি লুটপাট হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নিজের অবৈধ সত্তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য দেশকে চরম দুর্দিনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আর বিদেশীদের দেখাচ্ছে আমরা ছাড়া কেউ এসবের মোকাবিলা করতে পারবে না।’

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রশ্ন হলো, যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় তাহলে প্রতিবছর ১৯৪০ লাখ টন খাদ্য আমদানি করতে হয় কেন? ৪৭ লাখ টন খাদ্য বিনষ্ট হয়। কারণ লুটপাটের সরকার তাদের লোকজন দিয়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়ান।’

তিনি বলেন, ‘দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা একটা অরাজকতা ঘোর অন্ধকারের মধ্যে বসবাস করছি। এ ধরনের দুঃশাসনের মোকাবিলা করতে হবে একমাত্র জাতীয়তাবাদী শক্তিকে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আপনার মতামত লিখুন :