‘বাবুনগরীর অনুমতি না থাকায় আল্লামা শফীর জানাজা পড়তে দেওয়া হয়নি’

প্রকাশিত : ১৭ জুন ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

হেফাজতের সাম্প্রতিক সহিংসতায় জামায়াতসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটেছিল দাবি করে এর সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

আবু রেজা নদভী বলেন, আল্লামা আহমদ শফীর জানাজায় লাখো মানুষ সমবেত হয়েছিল। একটি জানাজায় সবাই যেতে পারবে, কারো জন্য বাধা নেই। কিন্তু আমি আল্লামা শফীর একজন ঘনিষ্ট হয়েও আমাকে আমাকে জানাজায় যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। হরকাতুল জিহাদ এবং মানহাজি গ্রুপ এ বাধা দিয়েছে। আমাকে বলা হল, আপনি জানাজায় যেতে পারবেননা। যেতে হলে আমিরুল মুমিনিনের অনুমতি লাগবে। আমিরুল মুমিনিন কে? আমিরুল মুমিনিন নাকি জুনায়েদ বাবুনগরী।  বারবার অনুমতি চেয়েছি, কিন্তু তিনি অনুমতি না দেওয়ায় পরে আমি জানাজা না পড়ে চলে এসেছি।

এসময় আল কায়েদা ও আইএসের আদর্শে গড়ে ওঠা নতুন গোষ্ঠী মানহাজিদের সম্পর্কে সংসদকে জানান তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর দুইটি ক্যাপিটাল রয়েছে উল্লেখ করে সরকারদলীয় এ সদস্য বলেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ক্যাপিটাল সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার আমি দ্বিতীয়বারের এমপি। এটি আমরা আগেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। সম্প্রতি আমি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামেরও দায়িত্ব পেয়েছি। এটি জামায়াতের অর্থনৈতিক ও একাডেমিক ক্যাপিটাল ছিল।

ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক জানিয়ে আবু রেজা নদভী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় আলেম-ওলামা ও ইসলামের প্রতি আন্তরিকতার পরিচয় দিয়ে আসছেন। কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে তিনি মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দিয়েছেন। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ ছিল, তখন তিনি বিশেষ বিবেচনায় কওমি মাদ্রাসাগুলো খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন। সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। যেটি তুরস্ক, স্পেন, সৌদি বাদশাহ, এমনকি মোঘল শাসকরাও করতে পারেনি।

এসময় মডেল মসজিদগুলোতে যোগ্য আলেমদের নিয়োগ এবং কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :