ওই নারী মামুনুলের বৈধ স্ত্রী হলে তার নামই রেজিস্টারে লিখত : হানিফ

প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল ২০২১
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

মামুনুল হক ধর্ম প্রচারক হিসেবে দাবিদার, অথচ অন্য নারী নিয়ে তিনি আরাম-আয়েশ করার জন্য রয়েল রির্সোটে গিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, ‘তার সঙ্গে যে নারী (জান্নাত আরা ঝর্না) ছিলেন রেজিস্টারে তার নাম না লিখে প্রথম স্ত্রীর নাম (আমিনা তৈয়েবা) লিখেছেন। যদি ওই নারী তার “বৈধ স্ত্রী” হতো তাহলে তার নামই লিখত।’

হেফাজতে ইসলামের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সোনারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে আসেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। পরে তিনি স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে উপস্থিত সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ওই নারীর নাম রেজিস্টারে লিখেননি, তাই তার বৈধ স্ত্রী নন। তিনি নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন। তিনি অনৈতিক কাজে জড়িত ছিল।’

উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙা মানে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি-ঘর ভাঙা।’ সব নেতাকর্মী সরকারের পাশে থেকে সরকারকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘একটি চক্র এদেশের উন্নয়ন চায় না। তারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য পায়তারা করছে। আগামীতে সকল অপশক্তির দাঁত ভাঙা জবাব দিয়ে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে। আপনার সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। প্রতিটি নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের পাশে থেকে হেফাজতকে দমন করতে হবে।‘

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘হামলার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে। শক্ত হাতে দমন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

এসময় মাহবুবুল আলম হানিফের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মিনাল কান্তি দাস, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (৩ মার্চ) উপজেলার সোনারগাঁও রয়েল রির্সোটে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করে স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে হেফাজতের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ওই রির্সোটে হামলা, ভাঙচুর চালিয়ে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই দিন রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রনির বাড়ি-ঘরে হেফাজত কর্মীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

ঘটনার দুই দিন পর হেফাজত কর্মীরা স্থানীয় এক সংবাদ কর্মীর বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করাসহ ও সাংবাদিককে মারধর করে।

আপনার মতামত লিখুন :