ভালো হয়ে যান, হেফাজতের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ

প্রকাশিত : ৩১ মার্চ ২০২১
  গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পুরোনো ছবি

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে মুক্তি ও সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে বলে মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।  আজ বুধবার বিকেলে ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা কমরেড আলাউদ্দিন আহমেদ স্মরণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বলেন, ‘হেফাজতকে বলব ভালো হয়ে যান। আপনারা আওয়ামী লীগের ঘুষের পয়সায় চইলেন না। আওয়ামী লীগ আপনাকে মাথায় তুলেছে, যখন মাথা থেকে ফেলে দিবে তখন হেফাজত ভাইয়েরা টের পাবেন। তারা আপনাকে অন্ধকুপে রাখতে চাই। আমরা আলোকিত মাদরাসা চাই। আলোকিত মাদরাসা কী, সেখানে বিজ্ঞান পড়ানো হবে, বাংলা পড়ানো হবে, অঙ্ক পড়ানো হবে, কম্পিউটার শেখানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি একা কিছু করতে পারব না। পরিবর্তন ঘটানোর জন্য আমরা সম্মিলিতভাবে রাস্তায় নামতে পারি। আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। নয়ত কারো জীবন সুখের হবে না। কেউ শান্তিতে থাকতে পারব না।’

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণ আসতে আসতে ক্ষিপ্ত হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘটনায় আমার মনে বার বার প্রশ্ন এসেছে, সেখানে সরকারি অফিস কেন আক্রমণ হলো। থানায় আক্রমণের একটা কারণ দেখতে পারি, তারা লুট করে, রাহাজানি করে, অত্যাচার করে, ঘুষের মাত্র বাড়ায়। কিন্তু তফসিল অফিস, ম্যাজিস্ট্রেটের অফিসে হামলার কারণ কী? কারণটা হলো তারা সবাই ডাকাত। ২০১৮ সালে এরা ডাকাতি করেছে। ডাকাতির ফসলটা প্রধান্ত্রীর ঘরে তুলে দিয়েছেন। এরা ডাকাতি করেছে, আর হাসিনা ডাকাতির ফসল ঘরে তুলেছে। তাই জনগণের ক্ষোভ। যখনই সুযোগ এসেছে তখনই মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজ শ্রমিক সমাজকে শিক্ষিত করতে হবে। আমাদের একত্রে থাকতে হবে। আমরা কৃষক শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার চাই। তারা এই শাসনের অংশীদার হতে চাই, তাদের বক্তব্য রাখতে দিতে হবে। আজ প্রতিটি ক্ষেত্র অন্যায়-অবিচার চলছে। এভাবে একটি দেশ চলতর পারে না। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে একটা ধাপ্পাবাজকে এনে সংবর্ধনা দিলেন। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে, অন্যদের দয়ার ওপর রাষ্ট্র গড়বে না। আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা গড়ব। আমাদের সাহস নিয়ে আসতে হবে। আমাদের দুঃখের দিন শেষ করতে হবে।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে ও পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান রিজুর পরিচালনায় এসময় আরও বক্তব্য দেন- ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য নঈম জাহাঙ্গীর, কমরেড আলাউদ্দিন আহমেদ বড় ছেলে কামরুল হাসান রঞ্জু, ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :