করোনায় খাদ্য সংকট ঠেকাতে কৃষির উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপ সরকারের

প্রকাশিত : ২৬ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: করোনার কারণে দেশে খাদ্য সংকট বা কঠিন কোনো বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য আগে থেকেই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কৃষির উন্নয়নে বর্তমানে আবাদী জমি ছাড়া অনাবাদি জমিও আবাদের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এছাড়া এক জমিতে বছরে চার ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দানাদার ফসল ছাড়াও ফলমূল, বাদাম, ডাল ও তেল জাতীয় শস্য, সবজি চাষ, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন ও মাছ চাষে উন্নত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে এমন পদক্ষেপের কথা জানা গেল।

জানা গেছে, এ বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কৃষি, ভূমি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদসহ সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, এক ইঞ্চি জমি পতিত রাখা যাবে না এবং খাদ্য, ফসল, সবজি ও ফলমূল উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে যেন উদ্বৃত্ত থাকে এভাবে চাষ করতে হবে। করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্য দেশকে যেন সহযোগিতা করা যায় সে টার্গেট নিয়ে জমিতে ফসল ফলাতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, পতিত জমিসহ ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক জমিতে চার ফসল উৎপাদন, দানাদার বিভিন্ন ফসল ছাড়াও ফলমূল, বাদাম, ডাল ও তেল জাতীয় শস্য, সবজি চাষ, গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন ও মাছ চাষে প্রণোদনা, দেশকে ১৪টি কৃষি অঞ্চলে ভাগ করে ১৪ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব গ্রহণ, উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন, আউশ, আমন উৎপাদনের ব্যাপাক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণ করা, কৃষিকাজকে সম্মানজনক পেশায় পরিণত করা, মোট আবাদী জমি ৮৫.৭৭ লাখ হেক্টরের সঙ্গে ১০ কোটি ৮৫ লাখ ১৫ হাজার শতক অনাবাদি জমি যুক্ত করাসহ নানা পদক্ষেপ রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয় বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে মন্ত্রণালয়ের ১৪ জন কর্মকর্তাকে এসব দেখভালের দায়িত্ব দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক এবং প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কৃষি কর্মকর্তা নিজ নিজ উপজেলায় কৃষি উৎপাদন পরিস্থিতি এবং জমির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি-না সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এ ব্যাপারে প্রতিনিয়ত তদারকি করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :