সরকার ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে : কর্নেল অলি

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০২২

ভোরের দর্পণ ডেস্ক :

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনা ভোটে নির্বাচিত নিশিরাতের সরকারের পক্ষে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করার সক্ষমতা নেই। শেখ হাসিনা অবৈধ পন্থায় জোরজবরদস্তি করে ১৪ বছর দেশ শাসন করছেন। আমরা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দয়া করে এখন ক্ষান্ত হন, প্রতিশোধের রাজনীতি চিরদিনের জন্য পরিহার করে, ক্ষমতার লোভ-লালসা পরিহার করে, মনুষ্যত্বের খাতিরে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পূর্ব পান্থপথ এলডিপির দলীয় কার্যালয়ে ‘বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থির পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কর্নেল অলি বলেন, বর্তমান সরকারের সীমাহীন অদক্ষতা, লাগামহীন দুর্নীতি, জবাবদিহিহীনতা, সুশাসনের অভাব, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সর্বত্র দলীয়করণ, বিচারহীনতা, একদলীয় শাসন, খুন, গুমসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসকরণ এবং নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি এবং সর্বোপরি বেকার সমস্যার কারণে সরকার ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির সাত-আটজন নেতাকে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে। নতুন করে কয়েক শ মিথ্যা মামলা করেছে। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে হয়রানি করার জন্য আসামি করা হয়েছে। পুলিশের নির্যাতনের কারণে অনেকে নিজ গৃহে ঘুমাতে পারে না। কিছু কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ এবং তাদের নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য, অবৈধ সরকারকে নগ্নভাবে অবৈধ কর্মকাণ্ডে সাহায্য করে যাচ্ছে। সরাসরি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। যে বা যারা অতীতে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, তাদের কিন্তু শেষ পরিণতি সুখকর হয়নি। সরকার তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। আপাতত দৃষ্টিতে মনে হয় খুব দ্রুত অর্থনৈতিক ধ্বংস এবং সংঘাতের দিকে জাতি এগিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সরকারকে শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে। তাদের পক্ষে বর্তমান অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই এবং অন্যদিকে রক্তপাত এড়ানো সম্ভব হবে কি না জানি না। ’

তিনি আরো বলেন, ‘১২ বৎসর যাবৎ গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখার জন্য নিশিরাতের সরকার উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি। বর্তমানে মেগাপ্রকল্পের সংখ্যা ২০টি, যা ১৮ কোটি মানুষ এবং দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য দায়ী বলা যায়। বর্তমানে সরকারের ঋণ ১৪০ বিলিয়ন ডলার, যা আগামী পাঁচ মাস পর থেকে পরিশোধ আরম্ভ হবে। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পে উৎপাদন ছাড়াই বিরাট অঙ্কের সুদের টাকা পরিশোধ করতে হবে। যেমন কয়েক মাস পর থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সুদ বাবদ ৫৬৫ মিলিয়ন ডলার হিসেবে পরিশোধ করতে হবে। সরকার সমর্থিত কুইক রেন্টাল প্লান্টের জন্য প্রতি মাসে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়। শুধু মেগাপ্রকল্পের জন্য ব্যয় হবে ৭০ বিলিয়ন ডলার। ডলারের অভাবে নিয়মিত আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। অথচ ভারত থেকে নাচ-গান করার জন্য ডলার খরচ করে নোরা ফাতেহিকে আনা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডক্টর নেয়ামুল বশির, ডক্টর আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাডভোকেট এস এম মোর্শেদ, অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির পাঠান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :