আইনের শাসনের অভাবে মানুষের আচরণে মিলছে হিংস্রতা

প্রকাশিত : ১১ জানুয়ারি ২০২১

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

একের পর এক ঘটেই চলেছে পাশবিক ও নিষ্ঠুরতার ঘটনা। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বীভৎস নিষ্ঠুরতার কাছে রেহাই পাচ্ছেন না নিজ পরিবারের সদস্যরাও। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃষ্টান্তের অভাবসহ সামাজিক নানা সমস্যার কারণে মানুষের আচরণে মিলছে হিংস্রপ্রাণীর ছায়া।

জুয়া আর মাদক, একজন আপাত নিরীহ রিকশাচালককেও কতটা ভয়ংকর করতে পারে তার উদাহরণ রনি। স্ত্রী তার অত্যাচার সইতে না পেরে তালাক দিলে আরো উন্মত্ত হয়ে ওঠে এ যুবক।

স্ত্রীকে-তো বটেই শ্যালিকাকেও দিনদুপুরে একাই খুন করেন তিনি। তেজগাঁওয়ের এই বীভৎস ঘটনার মাত্র একদিন আগেই কলাবাগানে ঘটে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা। সেদিন বিকৃত আচরণের বলি হতে হয় ‘ও’ লেভেলের এক শিক্ষার্থীকে।

অপরাধবিজ্ঞানীরা বলছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সামাজিক বৈষম্য-হ্রাস, প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মাদক নির্মূল করে এখনো কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশ। সে কারণে সহিংসতা কমছে না।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, আমাদের এখানে প্রতিনিয়ত এমন একটা রাষ্ট্র গড়ে উঠছে সেখানে সুশাসন নেই। আইনের শাসন নেই। একই সঙ্গে পুলিশের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন রয়েছে। এ ছাড়া মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে প্রচণ্ডভাবে।

মাত্র ক’দিন আগেই চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা হয় সুনামগঞ্জে। বাস থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচান ওই শিক্ষার্থী। সমাজবিজ্ঞানীদের মত হলো, মানুষের বেড়ে ওঠার পরিবেশ সুস্থ ও মানবিক না হলে তার আচরণও হয় অসুস্থ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নেহাল করিম বলেন, দায়বদ্ধ সমাজের না, বিদ্যালয়ের না; এর দায় হচ্ছে বাড়ির। যখনই ছেলে ও মেয়ের বেড়ে ওঠাটা সুন্দর হয় না তখনই এ ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকে।

তাদের মতে, সামাজিক অনাচারের বিবিধ বিষয় জিইয়ে রেখে, সুস্থ সমাজ গড়া অসম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন :