সংসদে দেওয়া প্রশ্নপত্র বদলের অভিযোগ বিএনপির

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাতীয় সংসদে প্রশ্নপত্র বদল করার অভিযোগ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র বিকৃত করার অভিযোগও করেন তারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলেন তারা। এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা যে প্রশ্নপত্র জমা দেই তা স্পিকার কর্তৃক গ্রহণের পর হুবহু মৌখিক প্রশ্ন তালিকায় আসতে হবে। কিন্তু আমি বিস্মিত হয়েছি আমার প্রশ্নটি ৬৮ নং সেইভাবে আসেনি। মাননীয় মন্ত্রী যে উত্তর দিয়েছেন এর ধারে কাছেও যাননি। আজকেও আমার মৌখিক একটি প্রশ্নের আংশিক উত্তর এসেছে পুরোটা আসেনি।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে স্পিকার ও সংসদ নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। মাননীয় মন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন তারা সঠিক তথ্য জাতিকে জানাবেন সংসদের মাধ্যমে। এটা সবচেয়ে বড় উদ্বেগের আমার প্রশ্ন পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদের অধিবেশনে শোক প্রস্তাবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের নাম যুক্ত করার দাবি জানানো পরও তা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হারুন।

সংসদ সদস্য জিএম সিরাজ বলেন, ১২ বছর দুর্নীতি চলছে, লুট চলছে, ডাকাতি চলছে, ব্যাংক খালি করে ফেলেছে, অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গেছে । চারিদিকে শুধু লীগ আর লীগ। সেখানে এখন পর্যন্ত আমি বা আমার বন্ধুরা যে প্রশ্ন উত্থাপন করি সংসদে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে সেই ১৪ বছর আগের কাহিনী শুরু করেন। ১৪ বছর আগে বিএনপি কি করেছিলো? ১৪ বছরে এই সরকার কি করলো সেটা তিনি দেখেন না।

জিএম সিরাজ আরও বলেন, এখন দেশ যেভাবে চলছে এভাবে দেশ চলতে পারে না। গরিবের পয়সা, কৃষকের পয়সা ট্যাক্সের পয়সা লুটপাট করে চলে যাচ্ছে। আমি আগামীকাল যদি দেখি পার্লামেন্ট ডিজলবড (বিলুপ্ত) হয়ে গেছে তাহলে আমি হবো হ্যাপীয়েস্ট ম্যান। কেনো? আমি চাই, মানুষ তার ভোটের অধিকার ফিরে পাক। এরা (ক্ষমতাসীনরা) মানুষের প্রতিনিধি নয়, এরা হাওয়ার প্রতিনিধি।

সংসদে জমা দেওয়া নিজের ৭টা প্রশ্ন মূল প্রশ্ন তালিকায় বিকৃতভাবে উপস্থাপিত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুয়ায়ী সংসদ সদস্য যে প্রশ্ন জমা দেবেন, সেই প্রশ্ন স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার চাইলে গ্রহণ করতে পারেন বা বাদও দিতে পারেন। সেই এখতিয়ার তাদের আছে। কিন্তু প্রশ্ন বিকৃত করবার কোনো রকমের ক্ষমতা সংসদের নেই।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটা দেশে বাস করছি যেখানে ভোট জালিয়াতি হয়, ব্যাংক জালিয়াতি হয়, টাকা পাচারের জালিয়াতি হয়, শেয়ার বাজারে জালিয়াতি হয়, যেখানে শিক্ষা ক্ষেত্রে জালিয়াতি হয়, করোনা নিয়ে, মাস্ক নিয়ে জালিয়াতি হয়, স্বাস্থ্য খাতে জালিয়াতি হয় এমন কোনো খাত নেই যেখানে জালিয়াতি হয় না। এই জালিয়াতি এখন সংসদেও ঢুকে গেছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা ৮/১০টি প্রশ্ন জমা দিলে তাদের সব প্রশ্নই গ্রহণ করা হলেও তার জমা দেওয়া ৪০/৫০টা প্রশ্ন থেকে মাত্র ৬ থেকে ১০টা প্রশ্ন আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা সংসদে আমাদের অধিকার পাচ্ছি না। আমরা সংসদে কথা বলতে চাই- সেই সুযোগ আমাদের দেওয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সংসদ সদস্য আমিনুল ইসলাম ও জাহিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ সংসদে বিএনপির আসন সংখ্যা সাত।

আপনার মতামত লিখুন :