পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ : আইএসের ‘দায় স্বীকার’, পুলিশ বলছে মিথ্যা

প্রকাশিত : ৩০ জুলাই ২০২০

অনলাইনে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ও জিহাদি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স বলছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্লবী থানায় ‘ওজন মাপার যন্ত্রের’ বিস্ফোরণের ঘটনার দায়দায়িত্ব স্বীকার করেছে কথিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস বা আইসিস বা আইএস)। গতকাল বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্সের গবেষক ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রিটা কাৎজ এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। যদিও পুলিশ বলছে, আইএস এ ধরনের মিথ্যা দায় আগেও স্বীকার করেছে।

রিটা কাৎজ তাঁর টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি থানায় (যদিও টুইটে বলা হয় ‘পুলিশের একটি দপ্তর’) হামলা করার দাবি করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)।’

২০১৯ সালের আগস্টের পর এটাই ঢাকায় আইএসআইএসের প্রথম হামলার কথা জানিয়ে রিটা কাৎজ টুইট বার্তায় আরো লিখেছেন, ‘ঈদুল আজহার আগে নতুন দফা হামলা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঢাকায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে আইসিস দাবি করছে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) ডেপুটি কমিশনার সাইফুল ইসলাম  বলেন, ‘এ ঘটনায় আইএস মিথ্যা দায় স্বীকার করেছে। গণমাধ্যমের প্রচারণা পেতেই আইএস এ কাজটি করছে বলে আমার ধারণা।’

ঘটনার পর পল্লবী থানা ভবন পরিদর্শন শেষে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেছিলেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, যে তিনজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, তারা কোনো জঙ্গি গ্রুপের সদস্য নয়। তারা কোনো না কোনো ক্রিমিনাল গ্রুপের সদস্য। ওজন মেশিনসদৃশ বস্তু যা ছিল, সেটার ভেতরেই এই এক্সপ্লোসিভগুলো ছিল। ’

গতকাল বুধবার ভোরের পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও ঠিক কখন ঘটেছে, তা নিয়ে তিন রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে পুলিশের পক্ষ থেকে। গতকাল বুধবার সকালে পল্লবী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আকলিমা আক্তার বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।’ মিরপুর ডিভিশনের এডিসি মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, ‘ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।’ আর ডিএমপি মিডিয়া জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন বলেছিলেন, ‘সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।’

এর আগে গতকাল ভোরের পর পল্লবী থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে ওজন মাপার যন্ত্রের বিস্ফোরণে চার পুলিশসহ পাঁচজন আহত হয়। আহত ব্যক্তিরা হলেন, পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরান ইসলাম (৪৮), উপপরিদর্শক (এসআই) সজীব (৩০), শিক্ষানবিশ এসআই অঙ্কুশ (২৮) ও রুমি (২৮) ও ইমরান ইসলামের সোর্স রিয়াজ (২৮)। রুমি ও রিয়াজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন। অস্ত্রোপচারের সময় রিয়াজের বাঁ হাতের কবজি কেটে বাদ দিতে হয়েছে। রুমিরও পেটে বিস্ফোরণের আঘাত লেগেছে। পিএসআই অঙ্কুশ চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েয়েন। বাকি দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিল আইএস। তারও আগে গত বছরের ৩০ এপ্রিল গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়া হয়। ওই বছরের ২৬ মে মালিবাগে পুলিশের এসবি (বিশেষ শাখা) কার্যালয়ের সামনে একটি পিকআপে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছিল আইএস। এদিকে পুলিশ বলেছিল, গুলিস্তানে ট্রাফিক পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং মালিবাগের এসবি কার্যালয়ের সামনে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে সায়েন্স ল্যাব মোড়ের হামলার ঘটনার মিল ছিল।

আপনার মতামত লিখুন :