এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব প্রমাণ করব: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৯ জুন ২০২০

২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বড় হওয়ায় তা বাস্তবায়নে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সেই সংশয় নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব। এবং সবার সম্মিলিত চেষ্টায় সেটা বাস্তবায়ন করে সরকার প্রমাণ করবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থ বিল-২০২০ জাতীয় সংসদে পাসের জন্য ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। সকালে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হলে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছে-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে-তাঁতী, জেলে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সকল পেশার মানুষ। পান দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র কুটির এবং ছোটবড় সকল ব্যবসায়ী, সকল শ্রেণির, নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যারা কষ্টে আছেন তাদের সকলের জন্যই এবারের বাজেট। এদেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত আমাদের বাজেট ঘাটতিও।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সত্য যে বড় কঠিন। তাই সব জেনেশুনে আমরা কঠিনকে ভালোবেসেছি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এবারের বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ এটি আকারে অনেক বড়। কিন্তু আমরা এই বাজেটটি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১১ জুন এই মহান জাতীয় সংসদে আমরা বাজেট ২০২০-২০২১ উপস্থাপন করেছি, এর মাত্র সাত দিনের মাথায় গত ১৮ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে ৭.৫ শতাংশ যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশের একেবারে কাছাকাছি। এতেই প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ। এই বাজেটটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের সকল মানুষ, যারা আমাদের প্রাণশক্তি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি। আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষিখাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যেখান থেকে এখনো আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই কৃষিখাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক এলাকা।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্য জোগান দিতে পারব, ইনশাল্লাহ। আমাদের কঠোর পরিশ্রমের আত্মপ্রত্যয়ী কৃষক ভাইদের কারণে অতিসম্প্রতি আমরা ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে চাল উৎপাদনে আমাদের অবস্থান করে নিয়েছি। গত ৫০ বছরে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে চারগুণ। যা বিশ্বে একটি রেকর্ড।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছরের প্রত্যেকটি বাজেটে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তার চাইতে প্রকৃত অর্জন আরও অনেক বেশি ছিল। বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ। যা বিশ্বের সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না (চীন) ১৭৭ শতাংশ নিয়ে। আর ভারত ছিল ১১৭ শতাংশে। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিনগুণ।’

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের এই দেশটি একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখনো আমরা আমাদের অর্থনৈতিক এলাকার যে চালিকাশক্তিগুলো আমরা এখনো সম্পূর্ণভাবে কোনোটাই এক্সপান্ড করতে পারিনি। আমরা কৃষির কথা বলেছি, শিল্পের কথা বলেছি, আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনমিতিক লভ্যাংশ) বলেছি। কিন্তু কোনোটাই আমরা পূর্ণমাত্রায় অর্জন করতে পারি নাই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বারবার একটিমাত্র কথা উঠে আসে যে, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত একদম কম, অনেক কম ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ পার্সেন্টের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি ১৪ ভাগে উঠতে পারি, মাত্র চারভাগ, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরও এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য কী কাজ দরকার? একটিমাত্র কাজ-সেটি হচ্ছে আমাদের অটোমেশন।’

‘আমরা গত বছর অটোমেশন শুরু করেছিলাম, শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যতদ্রুত সম্ভব এই বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ। এটা করে আমরা প্রমাণ করব, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কিন্তু আমরা বাজেট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী। আমি এ প্রসঙ্গে রেফারেন্সের মাধ্যমে তুলে ধরছি। ১. বিগত পাঁচ বছরে আমরা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম আমাদের প্রকৃত অর্জন প্রতি বছরই তার চাইতে বেশি ছিল। ২. বিগত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ যা বিশ্বে সকলের উপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না ১৭৭ শতাংশ নিয়ে এবং ভারত ১১৭ শতাংশ। ৩. গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে ৩ গুণ। ৪. দ্যা ইকোনমিস্ট ২ মে ২০২০ তারিখে গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশ রয়েছে ৯ম শক্তিশালী অবস্থানে।’

আপনার মতামত লিখুন :