বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় জয়পুরহাটে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

প্রকাশিত : ৯ জানুয়ারি ২০২২

ভোরের দর্পণ ডেস্ক:

‘বাবারে ঠান্ডার মধ্যে বড়ই কষ্ট। ঠান্ডার জালায় সারা রাত চোখের পাতা এক করতে পারি না। ভাঙা জানালা দিয়ে শির শির করে আসা বাতাসে গোটা গাও (শরীর) বরফ হয়ে যায়। কম্বলটা দিয়া মোক (আমাকে) বাঁচালিন (বাঁচানো) বাবা। খায়া থাকো আর না খায়া থাকো চোখের পাতাটাতো এক করা পারমু’। বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া কম্বল হাতে পেয়ে কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাট পৌরসভার সবুজনগর মহল্লার অশীতিপর বৃদ্ধ রাহেলা বেওয়া। কম্বল পেয়ে খুশি হয়ে পাঁচুর চক মহল্লার দরিদ্র নারী মনোয়ারা বেগম বলেন,‘হামরা গরিব মানুষ বাবা। হামাগেরে এই বিপদে যে কম্বল দিয়ে সাহায্য করল আল্লাহ যেন তার বাল বাচ্চাকে সুখে শান্তিতে রাখে’।

রবিবার জয়পুরহাট শহরের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চার’শ শীতার্ত মানুষদের কম্বল দেওয়া হয়। বসুন্ধরা গ্রুপের অর্থায়নে সারাদেশে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। আর কম্বল বিতরণের আয়োজন করছে কালের কন্ঠ শুভসংঘ। কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোস্তাকিম ফাররোখ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক খ.ম আব্দুর রহমান রনি। তারা বলেন, ‘অসহায় শীতার্ত মানুষদের কম্বল দিয়ে সহযোগীতা করছেন দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। মানুষের জন্য তার এই মহানুভবতার কোন তুলনা নেই। এর আগে করোনাকালীন সময়েও তিনি দেশের অসহায় মানুষদের ত্রাণ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমরা সকলেই প্রাণভরে দোয়া করবো। তিনি যেন সবসময় মানুষের কল্যাণে এভাবেই পাশে দাঁড়াতে পারেন’।

এর আগে জয়পুরহাট পৌরসভার সবুজনগর আল-হেরা নূরানী হাফেজিয়া এতিমখানা মাঠে দুই’শ কম্বল এবং বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ মাঠে চার’শ কম্বল এতিম, দুস্থ ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

কম্বল পেয়ে সবুজনগর এতিমখানার শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘এবারে ঠান্ডা খুবই বেশি। পাকা মেঝেতে থাকা যায় না। খালি ঠান্ডা লাগে। ঠান্ডার চোটে গাও থর থর করে কাঁপে। কম্বলডা পাওয়ায় আজ থেকে ঠান্ডা আর লাগবে না। কম্বল বিতরণের পর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করে দোয়া করেন সবুজনগর এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান মওলানা হাফেজ মো. নুর আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন এতিমখানার সভাপতি মো. মাছুদুল কবীর সুহাস, মাদ্রাসা পরিচালক আপন মন্ডল, শিক্ষক মিজানুর রহমান, মোস্তাকিম বিল্লাহ সহ আরো অনেকে।

সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান ।

আপনার মতামত লিখুন :