মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক: করোনা সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে মোবাইলের লেনদেন। দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। যার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক, লেনদেন হচ্ছে রেকর্ড পরিমাণে। জুলাই মাসে এ ব্যবস্থায় ৬০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়। যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ লেনদেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ছাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২৫ লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে, গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে গ্রাহক সংখ্যার সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণ। করোনার এ দুর্যোগকালীন সময়ে গ্রাহকের কাছে মোবাইলের লেনদেন আরও জনপ্রিয় করতে বিশেষ ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষ সরাসরি সাক্ষাতে নগদ লেননেদের চেয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশলেস লেনদেন বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে। পাশাপাশি এখন শ্রমিকদের বেতন বোনাস, সরকারের সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী- বর্তমানে মোট ১৫টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত। ২০২০ সালের জুলাই মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ কোটি ২৫ লাখ ৭৩ হাজারে। যা তার আগের মাস মের চেয়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেয়া হচ্ছে। আলোচিত মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১৭ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। এ সময়ে উত্তোলন করেছে ১৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে এমএফএসে রেমিট্যান্স সংগ্রহ ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এসময় রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১৭ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। জুলাইয়ে বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৮৭৯ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে এক হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। সরকারি পরিশোধ এক হাজার ৭৭ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

আপনার মতামত লিখুন :