গরুর হাটে বেচাকেনা নেই, মানুষের হাতে টাকা নেই

প্রকাশিত : ২৬ জুলাই ২০২০

রাজধানীর হাজারীবাগ কোরবানির পশুর হাটে পশু আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা ট্রাকে ও নৌকায় তাদের পশু এনে এ হাটে অবস্থান নিচ্ছেন। তবে অন্যবারের চেয়ে এবারের হাটের চিত্র একটু ভিন্ন।

ব্যাপারীরা হাট কর্তৃপক্ষের আদেশ-নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাটে অবস্থান নিচ্ছেন। মাস্ক ছাড়া হাটে প্রবেশ নিষিদ্ধ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারের ঘোষণা দেয়া হচ্ছে মাইকে। এসব বিষয়াদি তদারকির জন্য মনিটরিং টিম কাজ করছে। পশুর কোনো সমস্যা হলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন পশু চিকিৎসকরা। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে হাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

কুষ্টিয়া থেকে ১০টি গরু নিয়ে হাজারীবাগ হাটে এসেছেন করিম ব্যাপারি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আজ দুপুরে এসে নেমেছি। একজন ক্রেতা এসে একটি গরুর দরদাম করেছেন। ৭০ হাজার পর্যন্ত বলেছেন। আমি এক লাখ টাকার কথা বলেছি। আর কোনো গ্রাহক এখনো আসেনি (সন্ধ্যা পর্যন্ত)।’

মঙ্গলবার থেকে হাটে বেচাকেনা শুরু হবে। এলাকায় গরুর দাম কেমন এমন প্রশ্নের জবাবে করিম ব্যাপারি বলেন, ‘এলাকাতে গরুর গ্রাহক নেই। হাটে-বাজারে গরুর যে দাম বলে তাতে চালানও ওঠে না।’

তিনি বলেন, ‘গতবছর এই হাটে প্রথমে ১০টি, পরে আরও পাঁচটি গরু এনে বিক্রি করেছিলাম। তাতে মোটামুটি ভালো একটা লাভ পেয়েছিলাম। এবারও কিছু লাভের আশায় খুব কষ্ট করে এখানে এসেছি। দেখি খোদা কী করেন?’

আরেক ব্যাপারী আবদুল কাদের সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে এসেছেন। তিনি ১৫টি ষাড় গরু এনেছেন এই হাজারীবাগ হাটে। এবার সারাদেশেই তার কাছে কোরবানির বাজার ভালো মনে হচ্ছে না। তারপরও তারা যেহেতু গরুর ব্যবসা করেন সে কারণে এবার ১৫টি গরু হাটে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘এবার এলাকায় গরুর হাটে বেচাকেনা নেই। মানুষের হাতে টাকা নেই। করোনার কারণে অনেকের চাকরি গেছে। চার মাস কোনো ব্যবসা নেই। অনেকে চালান ভেঙে বসে বসে খেয়েছে। ঢাকায় এসেছি কারণ এখানে অনেক বড় লোকের বাস। তারা কোরবানি দেবেই।’

এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ১১টি জায়গায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চূড়ান্ত হওয়া ১১টি পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে-কমলাপুর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব-সংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, আফতাবনগর ব্লক ই, এফ ও জি-এর সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ-সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ-সংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট-সংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠ-সংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা মাঠ-সংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল-সংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা এবং রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ-সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা।

হাজারীবাগ হাটের বুথ-১-এর ইনচার্জ আকাশ  বলেন, ঈদের দিনসহ মূল হাট থাকবে পাঁচদিন। এখন ব্যাপারীরা এসে অবস্থান নিচ্ছেন। আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যাপারীদের অবস্থান নিতে বলছি। হাটে সরকারি নির্দেশনাবলী মানার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। তাছাড়া আমাদের মনিটরিং টিমের সদস্যরা কাজ করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের হাজারীবাগ হাটে ৬-৭ হাজার পশুর ধারণক্ষমতা রয়েছে। তবে এবার অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পশু কিছু কম হতে পারে।

বিগত বছরের তুলনায় হাট কমানোর বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, ‘আমরা এ বছর প্রাথমিকভাবে ১৪টি হাট ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও করোনা মহামারির বিস্তার রোধে পরবর্তীতে হাট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে ১১টি হাট ইতোমধ্যেই ইজারা দেয়া হয়েছে, সেসব হাটে আমরা একদিকে প্রবেশ এবং অন্যদিকে বের হওয়ার রাস্তা করে দেব। আর যেখানে গরুগুলো রাখা হবে সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে যাতে তিন ফুট দূরত্ব বজায় থাকে, সেজন্য বৃত্ত করে দেয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :