সিনিয়র ব্যাচের বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিবেচনার দাবি

প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট ২০২০

পদোন্নতিবঞ্চিত সিনিয়র ব্যাচের যুগ্ম সচিবরা এসএসবির (সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ড) কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, অতিরিক্ত সচিব পদে আসন্ন পদোন্নতির ক্ষেত্রে পদোন্নতি বোর্ড নিশ্চয় বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেবে।

পদোন্নতিপ্রত্যাশী লেফটআউট তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের অনেকে  এমন আবেদন-নিবেদনের কথা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, বাস্তবে তাদের মতো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তো কোথাও দাবিনামা পেশ করতে পারেন না। তাদের কোনো সংগঠন বা ইউনিয়ন নেই। থাকার সুযোগও নেই। প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন থাকলেও সেখানে এসব বিষয়ে কথা বলার লোক নেই। কারণ, যারা পদোন্নতিবঞ্চিত নন, তারাই নেতৃত্বে থাকেন।

ফলে সেখানে অ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ‘পদোন্নতি বঞ্চনা’ নিয়ে আলোচনা করার ফুরসত কোথায়। শুধু বর্তমান সরকারের আমলে নয়, সব সরকারের আমলে এমনটিই হয়ে আসছে। এজন্য বড়জোর পদোন্নতিবঞ্চিতরা ব্যক্তিগতভাবে এসএসবির সভাপতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সদস্য সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন সচিবের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ কিংবা লিখিত আবেদন করতে পারেন। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব আবেদনে কোনো কাজ হয় না। এগুলো নথিজাত হয়ে পড়ে থাকে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা বলেন, এসএসবির সদস্যদের কাছে শুধু একটাই আবেদন জানাব- আমরা যারা বিভিন্ন ব্যাচের সিনিয়র যুগ্ম সচিব আছি, তারা যদি পদোন্নতি পাওয়ার জন্য সবদিক থেকে যোগ্য হয়ে থাকি, তাহলে সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে সবাইকে যেন পদোন্নতি দেয়া হয়। কেননা তারা হয়তো চাকরিজীবনে সচিব আর হতে পারবেন না। তাই অন্তত অতিরিক্ত সচিব হয়ে অবসরে যেতে চান। নিশ্চয় প্রাপ্য এই হক থেকে তাদের এবার বঞ্চিত করা হবে না।

এদিকে দু’বছর আগে যারা যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে সিনিয়র ব্যাচের কর্মকর্তারা বলেন, সামান্য ২০ দিনের জন্য তাদেরকে এবারের বিবেচনা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে। তারা যুগ্ম সচিব হন ১৫তম ব্যাচের সঙ্গে ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। নিয়মানুযায়ী ২ বছর পর অর্থাৎ ১৯ সেপ্টেম্বর তারা অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করবেন। কিন্তু এখন ১৩তম ব্যাচকে অতিরিক্ত সচিব করা হচ্ছে। শিগগির এসএসবির বৈঠক শুরু হওয়ার কথা। অথচ ৪-৫ ব্যাচ সিনিয়র হওয়া সত্ত্বেও তারা বাদ পড়ছেন। এজন্য তারা দাবি জানিয়েছেন, এসএসবি চাইলে তাদেরও পদোন্নতির জন্য বিবেচনায় নিতে পারে। সেক্ষেত্রে পদোন্নতি সেপ্টেম্বরে না হয়ে অক্টোবরে হবে।

ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকে বিএনপি সরকারের আমলে দফায় দফায় পদোন্নতিবঞ্চিত হয়েছিলেন। তাই তারা নিশ্চয় জানেন, বঞ্চিত হওয়ার কী যন্ত্রণা। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়া ছাড়াও আজকাল সচিবালয়ের করিডরে কিংবা লিফটে ওঠার সময়ও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। একজন যুগ্ম সচিব জানান, মঙ্গলবার আমার চোখের সামনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। সকালে ৬নং ভবনের নিচে ১৯৮৫ ব্যাচের একজন অতিরিক্ত সচিব লিফটে ওঠার পর লিফটম্যান বলল, স্যার সচিব স্যার এসেছেন একটু নেমে দাঁড়ান। পরে দেখা গেল তার থেকে দুই ব্যাচ জুনিয়র কর্মকর্তা সচিব হিসেবে লিফটে উঠলেন। বিব্রত হলেন সিনিয়র ব্যাচের অতিরিক্ত সচিব। এ রকম ঘটনা অহরহ ঘটছে। হতে পারে, এভাবে তীব্রভাবে মনঃকষ্ট পাওয়া অতিরিক্ত সচিবের অধীনে একসময় এই সচিবই হয়তো কাজ করেছেন। এসিআর নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দু’বছর আগে ২০ সেপ্টেম্বর ১৫৭ জন যুগ্ম সচিবের সঙ্গে লেফটআউট হিসেবে ৭৩ জন লেফটআউট কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এদের মধ্যে ১৯৮৪ ব্যাচের ১ জন, ৮৫ ব্যাচের ৭ জন, ৮৬ ব্যাচের ৯ জন, নবম ব্যাচের ৬ জন, দশম ব্যাচের ৫ জন, ১১তম ব্যাচের ১০ জন এবং ১৩তম ব্যাচের ছিলেন ৩৫ জন। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের বাইরে অপশন দিয়ে আসা উপসচিদের মধ্য থেকে পদোন্নতি দেয়া হয় আরও ১৭ জনকে। যারা ছিলেন বিভিন্ন ব্যাচের সিনিয়র কর্মকর্তা। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আদার্স ক্যাডার থেকে অপশন দিয়ে আসা কর্মকর্তাদের সব সময় জুনিয়রদের সঙ্গে পদোন্নতি নিতে হয়। সে সময় নিয়মিত ব্যাচ হিসেবে ১৫তম ব্যাচ থেকে ৫৯ জনকে যুগ্ম সচিব করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :