পদ্মা সেতু বাঁকা কেন

প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০২২

ভোরের দর্পণ ডেস্কঃ

পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়। পদ্মা সেতু এখন বাস্তব। স্বপ্নের এই সেতু এখন শুধু উদ্বোধনের অপেক্ষায়। আসছে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা পাড়ি দিয়ে উদ্বোধন হবে সেতুটির।

তবে এর আগেই পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ও এর নানা প্রকৌশলগত তথ্য নিয়ে চলছে আলোচনা। এরইমধ্যে  অনেকেরই মনে প্রশ্ন উঠেছে, পদ্মা সেতু বাঁকা কেন?

আমরা যদি আকাশ থেকে পদ্মা সেতু দেখি, দেখব, সেতুটা সরলরেখার মতো সোজা নয়। সেতুটি ডাবলি কার্ভড। অর্থাৎ ডানে-বাঁয়ে দুবার সামান্য বাঁকানো।

অনেকেই ভাবতে পারেন, কেবলমাত্র সৌন্দর্য রক্ষার্থে পদ্মা সেতুকে বাঁকা করে বানানো হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা এমন নয়।

শুধু পদ্মা সেতু নয়, বড় বড় সেতুগুলো সোজা না বানানোর পরিবর্তে বাঁকা করে বানানো হয়। কেননা একটি সেতুকে তার নিজস্ব ওজন, যানবাহনের ওজন, নদীর বা প্রাকৃতিক দূর্যোগের চাপ/ ওজন বহন করতে হয়।

সেতুতে গাড়ি ওঠার সময় কম্পনজনিত চাপ সৃষ্টি হয়। বাঁকা করে তৈরি করা হলে এটি পুরো সেতুতে ছড়িয়ে পড়ে ফলে কম চাপ পড়ে। সোজা হলে পুরো সেতুতে ছড়ায় না ফলে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে যানবাহনের লোডগুলো সঠিক ভাবে প্রতিটা পিলারে আরোপিত হয়। এছাড়া নদীতে স্রোতের সময় পিলারে প্রচন্ড চাপ পড়ে, কিন্তু বাঁকা হলে চাপ কম পড়ে। মাটিতে সব জায়গায় সমান চাপ থাকে, তাই বাঁকা করলে ভূমিকম্পের সময় পিলার সব গুলো কাঠামো ধরে রাখতে পারে।

তাছাড়া বড় বড় সেতুগুলো বাঁকা হওয়ার অন্যতম কারণ দূর্ঘটনা প্রতিরোধ। একটানা সোজা গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায়ই চালক ক্লান্তি অনুভব করেন এবং মাঝেমধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। যা দূর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী। তাই বড় সেতুগুলো আঁকাবাঁকা হয়। যদি কখনো সেতুর কোনো অংশ ভেঙ্গে যায় তাহলে তা দূর থেকে দেখা যাবে। যার ফলে অনেক বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

অপরদিকে সেতুর মোমেন্টাম ঠিক রাখার জন্য মাধখানে ধনুকের ন্যায় বাকানো হয়। যার ফলে বন্যার সময় পানির অধিক চাপেও পিলারগুলো সেতুর কাঠামোকে ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

ফলে পদ্মা সেতু তৈরিতে রড-সিমেন্ট বেশি লাগলেও কিছু করার নেই। কেননা বেশিদিন টিকিয়ে রাখার জন্যই পদ্মা সেতুকে বাকা করে তৈরি করা হয়েছে। এখানে সৌন্দর্য্য কিংবা অন্য কোনো কিছু বিষয় নয়।

আপনার মতামত লিখুন :